‘বই বিক্রি করতে চাইছে, খাবার নয়!’ পুজোয় সিপিএমের বুকস্টল নিয়ে রাজ্যের কাছে জবাব চাইল হাই কোর্ট

‘বই বিক্রি করতে চাইছে, খাবার নয়!’ পুজোয় সিপিএমের বুকস্টল নিয়ে রাজ্যের কাছে জবাব চাইল হাই কোর্ট

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


কলকাতা: দুর্গাপুজোর সময় সিপিএমের অস্থায়ী বুকস্টল তৈরিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে প্রশ্ন তুলল কলকাতা হাই কোর্ট। নৈহাটি ও বনগাঁয় পুজোর দিনগুলিতে বইয়ের স্টল তৈরির অনুমতি না পাওয়ার অভিযোগে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল সিপিএম। মঙ্গলবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে মামলাটি উঠলে রাজ্য সরকারের কাছে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করার নির্দেশ দেয় আদালত। বুধবারের মধ্যে এই বিষয়ে রাজ্যকে বক্তব্য জানাতে বলা হয়েছে।

সিপিএমের অভিযোগ, গত আড়াই দশক ধরে পুজোর সময় ওই এলাকাগুলিতে নিয়মিত বইয়ের স্টল বা বইমেলার আয়োজন করা হয়ে আসছে। কিন্তু এ বছর সেই উদ্যোগে অনুমতি দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, একই এলাকায় একটি হিন্দু সংগঠনের অস্থায়ী কাঠামো তৈরির অভিযোগও তুলেছে বাম শিবির। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয় তারা।

‘আগে আলাদা অনুমতির প্রয়োজন হত না’, আদালতে দাবি সিপিএমের

শুনানিতে মামলাকারীদের আইনজীবী শামিম আহমেদ জানান, অতীতে এই ধরনের বইয়ের স্টল তৈরির জন্য আলাদা করে অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন হত না বলে তাঁদের দাবি। কিন্তু চলতি বছর রাজ্য প্রশাসন ও পুলিশ অনুমতির বিষয়টি ঝুলিয়ে রেখেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আইনজীবীর আরও অভিযোগ, অনুমতি না পেয়ে সিপিএমের কর্মীরা নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ দিয়ে অস্থায়ী কাঠামো তৈরি করতে গেলে একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় সংগঠন বাধা দেয়। সেই সময় পুলিশ কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে বলেও আদালতে দাবি করা হয়। যদিও এই অভিযোগগুলির বিষয়ে রাজ্যের বক্তব্য এখনও জানা যায়নি।

রাজ্যের কাছে বিচারপতির প্রশ্ন

মামলাকারীদের বক্তব্য শোনার পর রাজ্যের কৌঁসুলির উদ্দেশে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। বইয়ের স্টল তৈরির ক্ষেত্রে বাধা দেওয়ার কারণ জানতে চেয়ে তিনি বলেন, “ওরা তো বই বিক্রি করতে চাইছে, খাবার নয়! এ ব্যাপারে আপনাদের নির্দিষ্ট বক্তব্য কী?”

আদালতের এই প্রশ্নের পর রাজ্য সরকারকে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার রাজ্যের বক্তব্য শোনার পর মামলাটির পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সেদিকেই নজর রয়েছে।

পুজোর সময় বইয়ের স্টল বসানোর অনুমতি নিয়ে এই মামলায় এখন মূল প্রশ্ন, প্রশাসন কেন অনুমতি দেয়নি এবং একই এলাকায় অন্য অস্থায়ী কাঠামো তৈরির ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের বক্তব্য সামনে এলেই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হতে পারে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top