কলকাতা – কলকাতার বউবাজারে আবারও বাড়ি ধসের ঘটনা ঘটল। রবিবার দুপুরে মদন দত্ত লেনের বহু বছরের পুরনো একটি বাড়ির চাঙড় ভেঙে পড়ে গুরুতর জখম হন এক ব্যক্তি। ছুটির বিকেলের স্নিগ্ধ পরিবেশে হঠাৎই এই বিপত্তি নেমে এলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকাজুড়ে। খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, মেট্রো কর্তৃপক্ষের ইঞ্জিনিয়ার এবং অন্যান্য আধিকারিকরা। দ্রুত শুরু হয় উদ্ধার ও নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলার কাজ।
গত কয়েক বছরে মেট্রোর কাজ চলাকালীন বউবাজারের একাধিক স্থানে বাড়ি বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে। ২০১৯ সালে দুর্গা পিতুরি লেন ও মদন দত্ত লেন-সহ কাছাকাছি এলাকার বহু বাড়িতে ফাটল দেখা দিয়েছিল। অনেক বাসিন্দাকেই সেইসময় পুরনো ঘর ছেড়ে অন্যত্র গিয়ে থাকতে হয়েছিল। এরপর মেট্রো চালু হলেও আতঙ্ক কাটেনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন মেট্রোর রুট ধরে ট্রেন চলাচলের সময় এলাকায় তীব্র কম্পন অনুভূত হয়, যার ফলে পুরনো বাড়িগুলির কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ছে। তাঁদের দাবি, দশ দিন আগে মেট্রো কর্তৃপক্ষকে এই বিষয়ে সতর্ক করা হলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
আট মাস আগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলি ফিরে এসেছিল নিজেদের পুরনো ঠিকানায়। মদন দত্ত লেনের এই বাড়ির বাসিন্দারাও তখন ভিটেমাটি ফিরে পেয়ে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছিলেন। কিন্তু তাদের অভিযোগ, মেট্রোর সময়সূচি অনুযায়ী বাড়িতে নিয়মিত কম্পন অনুভূত হত, যা নিয়ে বারবার অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও কোনও সাড়া মেলেনি। সেই আতঙ্কের মাঝেই ফের ঘটল নতুন বিপর্যয়, যা আবারও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান তৃণমূল কাউন্সিলর নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয়দের সমস্যার কথা শোনেন। মেট্রোর ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি জানান, ‘অভিযোগ জানানোর পরও কেন কোনও পদক্ষেপ নিল না মেট্রো? এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।’
বর্তমানে দমকল, বিপর্যয় মোকাবিলা দল এবং মেট্রো কর্তৃপক্ষ মিলিতভাবে বাড়িটির কাঠামো পরীক্ষা করছে। তবে এলাকার বাসিন্দাদের আতঙ্ক তুঙ্গে—তাঁদের আশঙ্কা, আবারও একই ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে। ফলে বউবাজার জুড়ে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।




















