মালদা – কারও নেই মা, কারও নেই বাবা। আবার অনেকের জীবনে মা–বাবা দু’জনই থেকেও আপন বলতে কেউ নেই। ছোটবেলাতেই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে আশ্রয় নিতে হয়েছে চার দেওয়ালের ঘেরা এক অনাথ আশ্রমে। সেই আশ্রমই হয়ে উঠেছে তাদের ঘর, পরিবার। পড়াশোনা থেকে শুরু করে খাওয়া-দাওয়া, জীবনের প্রতিটি প্রয়োজন মেটে সেখানেই। তবে এবার সেই চার দেওয়ালের গণ্ডি পেরিয়ে বাইরের দুনিয়া দেখার সুযোগ পেল ১০ জন অনাথ শিশু।
দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনে সফরের সুযোগ মিলল মালদহের হবিবপুর ব্লকের শ্রীরামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বানপুর এলাকার একটি অনাথ আশ্রমের ১০ জন আদিবাসী শিশুর। এই প্রথম ট্রেনে চড়ার অভিজ্ঞতাই তাদের কাছে ছিল রোমাঞ্চে ভরা। ঝকঝকে স্লিপার ট্রেনে বসে খাওয়া-দাওয়া, জানলার ধারে বসে বাইরের দৃশ্য দেখা—সব মিলিয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়ে শিশুরা।
শনিবার মালদহে বন্দে ভারত স্লিপার সহ একাধিক ট্রেনের উদ্বোধনে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রেলের এই অনুষ্ঠানে কয়েকটি বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হবে—এই খবর পেয়ে অনাথ আশ্রম কর্তৃপক্ষ রেলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারপরই আশ্রমের শিশুদের জন্য বিশেষ আমন্ত্রণ আসে। শুধু ট্রেনে চড়াই নয়, সামনে থেকে প্রধানমন্ত্রীকে দেখার সুযোগ পেয়েও আপ্লুত হয়ে পড়ে তারা।
প্রধানমন্ত্রী সবুজ পতাকা নেড়ে বন্দে ভারত স্লিপারের উদ্বোধন করার পর ট্রেনটি মালদহ থেকে কামাখ্যার উদ্দেশে রওনা দেয়। শিশুদের মালদহ থেকে বারসই স্টেশন পর্যন্ত ট্রেনে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে বিশেষ বাসে করে তাদের ফিরিয়ে আনা হয় মালদহ টাউন স্টেশনে। পুরো যাত্রাপথে শিশুদের জন্য খাবার ও টিফিনের ব্যবস্থাও ছিল রেলের পক্ষ থেকে।
বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের মেনুতে ছিল চারটি পরোটা, ডাল, পোলাও, ছানার বড়ার তরকারি, আলু ভাজা, দই ও মিষ্টি। পাশাপাশি টিফিনে দেওয়া হয় চিঁড়ে ভাজা, চাল ভাজা, লাড্ডু ও জলের বোতল। স্বাদ আর আনন্দ—দু’টোরই স্বাদ পেল তারা এই সফরে।
সব মিলিয়ে, জীবনের কঠিন বাস্তবতার মাঝেই এই একদিনের রেলযাত্রা হয়ে থাকল তাদের কাছে আজীবনের স্মৃতি। চোখে-মুখে হাসি আর উচ্ছ্বাস নিয়ে আশ্রমে ফেরে শিশুরা, মনে জমা রেখে বন্দে ভারত স্লিপারে কাটানো সেই বিশেষ দিনের গল্প।




















