রাজ্য – বন্দে মাতরমের সার্ধশতবর্ষে দেশজুড়ে নানা কর্মসূচির মধ্যেই বাংলার সংস্কৃতি ও সাহিত্যের প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধা জানালেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। বন্দে মাতরমের স্রষ্টা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে স্মরণে রেখে লোকভবনের দক্ষিণ-পশ্চিম গেটের নামকরণ করা হল তাঁর নামে। নতুন করে এই গেটের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়’।
রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস জানিয়েছেন, বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জাতীয় সঙ্গীতের ভাবধারাকে স্মরণ করতেই লোকভবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে বঙ্কিমচন্দ্রের নাম যুক্ত করা হল। এর আগে লোকভবনের উত্তর গেটের নামও এক বিশিষ্ট বাঙালি মনীষীর নামে রেখেছিলেন রাজ্যপাল। ২০২৩ সালের ১৮ নভেম্বর উত্তর গেটের নামকরণ করা হয় ‘গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গেট’।
২০২২ সালের ১৮ নভেম্বর পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন সিভি আনন্দ বোস। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি তাঁর বিশেষ অনুরাগ বারবার প্রকাশ্যে এসেছে। লোকভবনে সরস্বতী পুজোর সময় বাংলা ভাষা শেখার ‘হাতেখড়ি’ নিতেও দেখা গিয়েছে তাঁকে। এমনকি ভবিষ্যতে বাংলায় বই লেখার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন রাজ্যপাল।
সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে রাজ্যপালকে বিভিন্ন গ্রামে যেতে দেখা গিয়েছে। সেই সময় স্থানীয় দোকানে ছোলা সেদ্ধ ও চপ খেয়ে বাংলায় দোকানদারকে “খুব ভাল হয়েছে” বলতেও শোনা গিয়েছে তাঁকে। রাজ্যপালের পদবী ‘বোস’-এর সঙ্গেও রয়েছে বাংলার ইতিহাসের যোগ। সিভি আনন্দ বোস নিজেই জানিয়েছেন, তাঁর বাবা ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর অনুগামী। বাংলার এই বীর সন্তানকে শ্রদ্ধা জানাতেই তাঁদের পরিবারে ‘বোস’ পদবী গ্রহণ করা হয়।
এমনকি বাংলার ভোটার হওয়ার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। লোকভবনের গেটগুলির নাম বাংলার মনীষীদের নামে রেখে তিনি যে বাংলার ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের প্রতি সম্মান জানাতে চান, সেই বার্তাই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।




















