হাওড়া – হাওড়া জেলার লিলুয়া থানার অন্তর্গত পটুয়া পাড়ায় ঘটে গেল নৃশংস খুনের ঘটনা। সৌভিক দত্ত (ওরফে শানু), এক উদীয়মান ফুটবলার, বন্ধুদের গণ্ডগোল থামাতে গিয়ে প্রাণ হারালেন। ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাতে, যখন পাড়ায় গণেশ পুজোর ভোগ পরিবেশন চলছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোগের সময় দুই যুবকের মধ্যে মারাত্মক সংঘর্ষ বেঁধে যায়। সৌভিক পরিস্থিতি শান্ত করতে এগিয়ে গেলে উল্টে তাঁর সঙ্গেই তুমুল বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে বিরোধ চরমে ওঠে এবং অমিত রায় চৌধুরী নামে এক যুবক পকেট থেকে ছুরি বের করে সৌভিকের গলায় কোপ বসিয়ে দেন। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন সৌভিক। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর পালানোর চেষ্টা করেন অভিযুক্ত অমিত। তবে স্থানীয়রা তাঁকে ধরে ফেলে পুলিশের হাতে তুলে দেন। এই ঘটনায় অমিতসহ আরও দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে হামলায় ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রটিও।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সৌভিক পাড়ার সবার প্রিয় ছেলে ছিলেন। তাঁর ফুটবল প্রতিভা এবং ভালো ব্যবহার তাঁকে আলাদা করে চিনিয়ে দিয়েছিল। তাই সৌভিকের মৃত্যুতে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও RAF মোতায়েন করা হয়েছে।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, “গণেশ পুজোর অনুষ্ঠান শেষে কয়েকজন যুবক মদ্যপান করতে বসে। তখন তিনজনের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। সৌভিক তাদের থামাতে গেলে এই বিপত্তি ঘটে। আমি সৌভিককে বলেছিলাম বাড়ি চলে যেতে, কিন্তু সে কথা শোনেনি। অমিত তখন ছুরি বের করে সৌভিকের গলায় কোপ মারে। অমিত নিজেকে আইনজীবী বলে দাবি করে, কিন্তু এভাবে আইন হাতে তুলে নিল কেন, সেটা তদন্ত হওয়া দরকার।”
আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দার কথায়, “আমাদের পাড়ায় প্রথমবার এমন ঘটনা ঘটল। যে ছেলেটি সৌভিককে খুন করেছে, সে এবং তার ভাই প্রায়ই ছুরি হাতে ঘুরে বেড়াত। এই ঘটনার পর আমরা সবাই আতঙ্কিত। আমরা চাই অভিযুক্তের কঠোর শাস্তি হোক, নয়তো এখানকার ছেলেপুলেরা রাতবিরেতে একা বের হতে ভয় পাবে।”
বর্তমানে পুরো এলাকায় চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু হয়েছে।
