রাজ্য – ৮৫ বছরের ঊর্ধ্বে নাগরিক, বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তি, যে কোনও বয়সের গুরুতর অসুস্থ মানুষ এবং অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের ক্ষেত্রে আর অফিসে ডেকে শুনানি নয়। শুনানির নোটিস নিয়ে তাঁদের বাড়িতেই গিয়ে যাচাই করার নির্দেশিকা জারি করল মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের (সিইও) দফতর। সোমবার এই নির্দেশিকা প্রকাশের পরেই বিষয়টিকে নিজেদের জয় হিসেবেই দেখছে তৃণমূল কংগ্রেস।
সিইও দফতরের সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া জানান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, শুরু থেকেই তৃণমূল গঠনমূলকভাবে সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা তুলে ধরেছে। সিইও-র কাছে বিষয়টি তুলে ধরার পরই কিছু ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির বার্তা বহন করছে।
এর পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানান, ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে যাঁরা রয়েছেন এবং যাঁদের একাধিক শারীরিক অসুস্থতা বা কোমর্বিডিটি রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রেও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা জরুরি। এই শ্রেণির মানুষকে বারবার অফিসে ডেকে শুনানিতে বসতে বাধ্য করলে অকারণে তাঁদের দুর্ভোগ বাড়বে বলেই মত তাঁর।
উল্লেখ্য, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে মানবিকতার প্রশ্নে প্রথম থেকেই সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। সোমবার দলের একটি প্রতিনিধি দল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের দফতরে গিয়ে একাধিক অভিযোগ ও প্রস্তাব পেশ করে। এসআইআর শুনানির ক্ষেত্রে বাস্তব সমস্যার কথা তুলে ধরে বিশেষ করে বয়স্ক নাগরিকদের বারবার শুনানিতে ডাকা নিয়ে আপত্তি জানায় তৃণমূল। সেই আবহেই কমিশনের এই নির্দেশিকা জারি হওয়াকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
এদিকে প্রযুক্তিগত কারণে ‘আনম্যাপড’ হয়ে যাওয়া ভোটারদের ক্ষেত্রেও আলাদা করে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও কেবলমাত্র বিএলও অ্যাপে ম্যাপিং না হওয়ার কারণে কোনও ভোটারের নাম বাদ দেওয়া যাবে না।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম রয়েছে কিন্তু বর্তমানে যাঁরা ‘আনম্যাপড’ হিসেবে চিহ্নিত, তাঁদের তথ্য যাচাই করতে হবে সংশ্লিষ্ট ডিইও ও ইআরও স্তরে। কমিশনের নির্ধারিত নিয়ম মেনেই শুনানি ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে জানানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় বয়স্ক ও অসুস্থ ভোটারদের জন্য এই মানবিক সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের স্বস্তি বাড়াবে বলেই মত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের একাংশের।




















