রাজ্য – রাজ্য সরকার অভিনব ওয়ান হেলথ প্রকল্প গ্রহণ করেছে, যার লক্ষ্য মানুষের এবং প্রাণীর স্বাস্থ্য ও পরিবেশকে একত্রিত করে সংক্রামক রোগ রোধ করা। করোনার পাশাপাশি ব্রুসলিস, বার্ড ফ্লু, ইবোলা, স্ক্রাব টাইফাস, অ্যানথ্রাক্স, রেবিস ও লেপটোস্পাইরোসিস—বিভিন্ন প্রাণঘাতী রোগ মানুষের মধ্যে ছড়ায় “না মানুষ” থেকে। নতুন প্রকল্পে শুধু পশু-পাখি নয়, কৃষিজ শাকসবজি ও পরিবেশকেন্দ্রিক উৎস থেকেও রোগ প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার স্বাস্থ্যভবনে ইনস্টিটিউট হেলথ অ্যান্ড ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার-এ উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে জনস্বাস্থ্য চিকিৎসক, পশু চিকিৎসক, কৃষি বিজ্ঞানী ও পরিবেশবিদরা অংশ নেন। স্বাস্থ্যদপ্তরের কর্তারা জানান, মানুষের স্বাস্থ্য, প্রাণীর স্বাস্থ্য ও পরিবেশ আলাদা নয়, বরং একে অপরের সঙ্গে যুক্ত। এই তিনটি ক্ষেত্রকে মিলিয়ে রাজ্য একটি মৌলিক ওয়ান হেলথ সিস্টেম গড়ে তুলছে।
নয়া ব্যবস্থায় গবাদি পশুর স্বাস্থ্য নির্দিষ্ট সময় অন্তর পরীক্ষা করা হবে। রোগ ছড়ানোর আগেই সতর্কতা, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, মহামারীর ঝুঁকি কমানো এবং চিকিৎসা খরচ হ্রাস—এসবই লক্ষ্য এই সিস্টেমের। ডা. কৌস্তভ নায়েক বলেন, পরিবেশ দূষণ ও পরিবর্তনের কারণে বহু অসুখ পুনরায় ফিরে এসেছে। তাই স্বাস্থ্য, বন, পরিবেশ, পশুপালন ও কৃষি দপ্তর একসঙ্গে কাজ করবে।
বর্তমানে স্ক্রাব টাইফাস দ্রুত ছড়াচ্ছে, যা মাইট পোকার কামড়ের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। বনদপ্তরের সহযোগিতা না পেলে ভবিষ্যতে রোগ নির্মূল সম্ভব নয়। পাশাপাশি, পোলট্রি ফার্মে অ্যান্টিবায়োটিকের অতিরিক্ত ব্যবহার মানুষের শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স তৈরি করছে। এই পরিস্থিতিতে পশুপালন বিভাগের সহায়তায় সচেতনতা বাড়ানো হবে।
মঙ্গলবারের বৈঠকে সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. যোগিরাজ রায়, ভাইরোলজিস্ট ও প্রাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডা. সিদ্ধার্থ জোয়ারদার উপস্থিত ছিলেন। তারা জানান, চিকিৎসক, পশু চিকিৎসক, কৃষিবিদ, পরিবেশবিদ ও বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞদের মিলিত করে রাজ্যস্তরে ওয়ান হেলথ কমিটি তৈরি হচ্ছে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতের অতিমারী, নতুন রোগ ও অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স মোকাবিলায় রূপরেখা গড়ে তোলা হবে।




















