রাজ্য – বাংলায় ওয়াকফ (Waqf) নিয়ে দীর্ঘদিন দ্বিধা-সঙ্কোচের পর অবশেষে রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা জারি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সংখ্যালঘু ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতর জেলাশাসকদের কাছে চিঠি পৌঁছে দিয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে রাজ্যের সব ওয়াকফ সম্পত্তির তথ্য উমিদ নামের কেন্দ্রীয় পোর্টালে আপলোড করতে হবে। ছয় মাসের মধ্যে এই কাজ শেষ করতে হবে, এবং রাজ্যের ৮২ হাজার ওয়াকফ সম্পত্তি এতে অন্তর্ভুক্ত।
প্রথমে মুখ্যমন্ত্রী নিজে বলেছিলেন বাংলায় ওয়াকফ হবে না, তবুও শেষ পর্যন্ত নির্দেশিকা মেনে নেওয়া হয়েছে। শাসকপক্ষের দাবি, এতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সুবিধা হবে এবং রাজ্যের ওয়াকফ সম্পত্তি নিরাপদ থাকবে। দলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, “রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর নজর এখন ওয়াকফ এস্টেটে, যাতে সম্পত্তি বোর্ডের আওতায় থাকে।”
সংখ্যায়, বাংলা দেশে দ্বিতীয় সর্বাধিক ওয়াকফ সম্পত্তি ধারণ করছে। রাজ্যে বর্তমানে ৮২,৬১৬টি সম্পত্তি নথিভুক্ত। প্রাক্তন কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরীর মতে, নথিভুক্ত না হওয়া জমি দখলের আশঙ্কা রয়েছে। তৃণমূলের নেতারা ওয়াকফ সংশোধনী আইনকে বিরূপ আখ্যা দিয়েছিলেন, অভিযোগ ছিল এটি মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করছে।
বিরোধীরা অবশ্য তীব্র আপত্তি তুলেছেন। শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, “ঠেলায় না পড়লে বিড়াল গাছে ওঠে না।” অন্যদিকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একাংশও হতাশ, যেমন হুমায়ুন কবীর ও নওশাদ সিদ্দিকী বলেছেন, রাজ্য প্রথমে মেনে নেবে না বলে ঘোষণা করলেও অবশেষে নির্দেশিকা মেনে নিয়েছে।
নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ। বাংলায় মুসলিম ভোটার প্রায় ২৭% এবং তারা প্রধানত মুর্শিদাবাদ, মালদহ, হুগলি ও ভাঙড় সংলগ্ন এলাকায় ঘনত্বপূর্ণ। এই ভোটব্যাঙ্কে তৃণমূলের প্রভাব অনেক, এবং ওয়াকফ বিষয়ক সিদ্ধান্ত ভোটের মাঠে দলকে সহায়তা বা ক্ষতি উভয়ভাবেই প্রভাবিত করতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল এই পরিস্থিতিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারে, অথবা ব্যর্থ হলে সংখ্যালঘু ভোটে প্রভাব কমতে পারে।




















