রাজ্য – বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজ্যপাল হিসেবে শপথগ্রহণ করলেন রবীন্দ্র নারায়ণ রবি। কলকাতার লোকভবনে আয়োজিত শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। এর মাধ্যমে তিনি পশ্চিমবঙ্গের ২২তম রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু সহ রাজ্যের একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব।
উল্লেখ্য, আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে গত ৫ মার্চ আচমকাই পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল পদ থেকে ইস্তফা দেন সি ভি আনন্দ বোস। তাঁর পদত্যাগের পরই কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়, আপাতত বাংলার রাজ্যপালের দায়িত্ব সামলাবেন তামিলনাড়ুর বর্তমান রাজ্যপাল আর এন রবি।
রবীন্দ্র নারায়ণ রবি দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাঁর জন্ম ১৯৫২ সালের ৩ এপ্রিল। ২০২১ সাল থেকে তিনি তামিলনাড়ুর ১৫তম রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তিনি নাগাল্যান্ডের রাজ্যপাল ছিলেন এবং একই সঙ্গে ২০১৯ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে মেঘালয়ের রাজ্যপাল পদও সামলেছেন।
১৯৭৬ ব্যাচের কেরল ক্যাডারের একজন আইপিএস অফিসার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন আর এন রবি। পরবর্তীতে তিনি ভারতের ডেপুটি ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার পদেও দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও নাগা শান্তি আলোচনায় ভারতের সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২২ সালের মার্চ পর্যন্ত এই শান্তি আলোচনার প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন রবি।
তবে নতুন রাজ্যপালের নাম ঘোষণার পরেই রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করেই কেন্দ্র সরকার নতুন রাজ্যপাল নিয়োগ করেছে। এমনকি আর এন রবিকে উদ্দেশ্য করে তিনি কটাক্ষ করে বলেন, ‘নতুন যিনি আসছেন, তিনি বিজেপির প্যারেড করা ক্যাডার। জেনে রাখুন, বাংলা কিন্তু অন্য জায়গা।’ তামিলনাড়ুর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সেখানেও মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনকে একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।




















