রাজ্য – বাংলার ভোট ঘিরে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় তড়িঘড়ি বৈঠক ডেকেছে Election Commission of India। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে হওয়া এই বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক, মুখ্যসচিব, ডিজিপি, এডিজি (আইনশৃঙ্খলা), Kolkata Police কমিশনার, সমস্ত জেলা নির্বাচনী আধিকারিক ও পুলিশ সুপারদেরও অবিলম্বে যোগ দিতে বলা হয়েছে।
সূত্রের খবর, এই জরুরি বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় Kaliachak-এর অশান্ত পরিস্থিতি। এসআইআর প্রক্রিয়ার সময় বুধবার দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কালিয়াচক-২ ব্লক অফিসে সাতজন বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো হয়। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগে মালদহের বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয় পথ অবরোধ ও বিক্ষোভ, যার মধ্যে Mothabari, সুজাপুর ও কালিয়াচকে উত্তেজনা চরমে পৌঁছয়।
প্রায় ১৫ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর গভীর রাতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিচারকদের উদ্ধার করা হয়। বৈধ ভোটারদের নাম চার দিনের মধ্যে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। তবে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে কয়েকজন জখমও হন।
এই ঘটনার জেরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে Supreme Court of India। প্রধান বিচারপতি Surya Kant মন্তব্য করেন, গোটা ঘটনাই পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার চেষ্টা। বিচারকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তদন্তভার Central Bureau of Investigation বা National Investigation Agency-এর হাতে দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে এবং দ্রুত প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।
শুধু তাই নয়, এই ঘটনায় রাজ্যের মুখ্যসচিব, ডিজিপি ও জেলাশাসককে শোকজ করেছে শীর্ষ আদালত। আদালতের কড়া মন্তব্য, বাংলায় সবকিছুতেই রাজনীতি ঢুকে পড়ছে এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতা স্পষ্ট।
এদিকে কমিশনের বৈঠকে মালদহের জেলাশাসকের কাছে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, কেন পুলিশের পৌঁছতে দেরি হল এবং কোথায় খামতি ছিল। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় মালদহ জেলা পুলিশ ১০টি পৃথক মামলা দায়ের করেছে এবং বিক্ষোভে জড়িত থাকার অভিযোগে একজন রাজনৈতিক প্রার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, মালদহের অশান্তি এবং আদালতের কড়া অবস্থানের জেরে বাংলার ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।



















