বাংলা ভাষায় কথা বলার ‘অপরাধে’ গ্রেফতার পরিযায়ী শ্রমিকরা, মানবিক পাশে দাঁড়াল তৃণমূল

বাংলা ভাষায় কথা বলার ‘অপরাধে’ গ্রেফতার পরিযায়ী শ্রমিকরা, মানবিক পাশে দাঁড়াল তৃণমূল

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – বাংলা ভাষায় কথা বলার অভিযোগে মহারাষ্ট্রের ভিওয়ান্ডিতে পশ্চিমবঙ্গের দুই পরিযায়ী শ্রমিক অসিত সরকার ও গৌতম বর্মণকে গ্রেফতার করার ঘটনা নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক উসকে দিল। রাজ্যে ফিরে আসার পর তাঁদের সঙ্গে দেখা করেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দু’জনের সঙ্গে কথা বলেন, তাঁদের অভিজ্ঞতা শোনেন এবং পরিবারগুলির পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
এই ঘটনার পর আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। জানা গেছে, অসিত সরকার ও গৌতম বর্মণ—দু’জনেরই নাম বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকায় রয়েছে। অর্থাৎ তাঁরা আইনত পশ্চিমবঙ্গের বৈধ ভোটার। শুধু তাই নয়, গৌতম বর্মণ নিজেই বিজেপির বুথ সভাপতি হিসেবে সক্রিয় কর্মী। তা সত্ত্বেও গ্রেফতারের পর তাঁর স্ত্রী সাহায্যের আশায় বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের দফতরে যোগাযোগ করলেও কোনও সহায়তা মেলেনি বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিজের এলাকার মানুষ এমনকি নিজের দলের কর্মীকেও রক্ষা করতে না এগিয়ে আসার অভিযোগে সুকান্ত মজুমদারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। শাসক দলের দাবি, রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিকতার জায়গা থেকেই তারা এই দুই শ্রমিকের পাশে দাঁড়িয়েছে।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বক্তব্যে বলা হয়েছে, এই ঘটনায় কোনও রাজনৈতিক স্বার্থ নেই। বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্য যদি কাউকে হেনস্তা বা গ্রেফতার হতে হয়, তাহলে তার প্রতিবাদ করা এবং আক্রান্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্ব। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দু’জনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বলে দাবি শাসক দলের।
বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর নির্যাতনের অভিযোগ নতুন নয়। এর আগেও বাংলা ভাষায় কথা বলাকে কেন্দ্র করে মারধর, হেনস্তা এমনকি রহস্যমৃত্যুর অভিযোগ সামনে এসেছে। প্রতিবারই এই বিষয় নিয়ে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
কয়েকদিন আগেই ওড়িশার সম্বলপুরে এক মর্মান্তিক ঘটনার অভিযোগ ওঠে। সেখানে ১৯ বছরের বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিক জুয়েল শেখকে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে বলে দাবি। নিহত যুবকের এক সহকর্মীর অভিযোগ, আধার কার্ড দেখতে চাওয়াকে কেন্দ্র করেই হামলার সূত্রপাত হয় এবং বাংলাদেশি সন্দেহে তাঁকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় জুয়েল শেখের মৃত্যু হয়।
ওড়িশার এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় দীর্ঘ পোস্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে পরিকল্পিতভাবে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর অত্যাচার চলছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, এই ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কড়া অবস্থান নেবে এবং নিহত যুবকের পরিবারের পাশে থাকবে রাজ্য সরকার।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top