রাজ্য – চলতি মাসে দু’বার ভূমিকম্পে কেঁপেছে বাংলা। সাম্প্রতিক কম্পন অনুভূত হয়েছে বাংলাদেশেও, আর উত্তর ভারত ও সিকিমে তার তীব্রতা ছিল আরও বেশি। আজকের এই দুলুনি অনেকের মনেই ফিরিয়ে এনেছে নেপালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের স্মৃতি। একই মাসে বারবার কম্পনে স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে শহরবাসীর মধ্যে। রাস্তাঘাটে, অফিসে, বাড়িতে—এখন একটাই আলোচনা, আমরা কতটা নিরাপদ?
শহরের একাধিক বাসিন্দার দাবি, সাম্প্রতিক কম্পনের মতো দুলুনি আগে কখনও অনুভব করেননি। কোথাও বহুতলের হেলে পড়ার খবরও সামনে এসেছে। এপিসেন্টার রাজ্যের খুব কাছাকাছি হওয়ায় কম্পনের মাত্রা আরও ভয় ধরাচ্ছে। কেন এমন হচ্ছে, ঘন ঘন ভূমিকম্পের কারণ কী—এই প্রশ্নেই সরব সাধারণ মানুষ।
এই প্রসঙ্গে পরিবেশবিদ স্বাতী নন্দী চক্রবর্তী জানান, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে আশ্চর্যজনক ভূপ্রাকৃতিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যার সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর মতে, বিশ্ব উষ্ণায়ন বাড়ছে, বাতাসে কার্বনের মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে, ফলে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে ভূমিকম্পের মতো ঘটনা অস্বাভাবিক নয়। তিনি মনে করেন, উষ্ণায়ন ও পরিবেশগত চাপ পৃথিবীর ভৌগোলিক কাঠামোর উপরেও প্রভাব ফেলছে।
এ মাসেই কলকাতায় দু’বার কম্পন অনুভূত হওয়ায় অনেকেই বিস্মিত। ‘আগে তো এতবার হত না’—এই কথাই শোনা যাচ্ছে সর্বত্র। পরিবেশবিদের বক্তব্য, একবার জোরালো কম্পন হলে মাটির গঠনে পরিবর্তন ঘটে, অনেক জায়গা ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে সেই একই এলাকায় অতিবৃষ্টি হলে ধস নামার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়। অর্থাৎ ভূমিকম্প, অতিবৃষ্টি ও ভূমিধস—সবই পরস্পর সম্পর্কিত হতে পারে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, পরিস্থিতি মোটেই হালকা ভাবে নেওয়ার নয়। পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতা এখন অত্যন্ত জরুরি। শুধু সচেতনতা নয়, প্রয়োজন বাস্তব পদক্ষেপ। কার্বন নিঃসরণ কমানো, পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন, শহুরে পরিকল্পনায় বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি—এসব নিয়েই ভাবতে হবে এখন থেকেই।
গত বছর মারাত্মক গরমের পর অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতও হয়েছে। বৃষ্টির ধরন বদলে যাচ্ছে—কখনও দীর্ঘ খরা, কখনও স্বল্প সময়ে অতিবৃষ্টি। শুধু এ রাজ্য নয়, গোটা পৃথিবীতেই এই প্রবণতা স্পষ্ট। এর পেছনে বাতাসে ক্রমবর্ধমান কার্বনের মাত্রাকেই দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কলকাতার মতো জনবহুল শহরে ঝুঁকি আরও বেশি। পরিবেশবিদের মতে, কম্পনের পর আফটারশকের সম্ভাবনা থেকেই যায়। ফলে বিপজ্জনক ও জরাজীর্ণ বাড়িগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া উচিত। শহর ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় বড়সড় ভূমিকম্প হলে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাও বেশি। তাই এখনই সতর্কতা, পরিকল্পনা এবং বৈজ্ঞানিক প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।
বারবার কম্পনে আতঙ্কিত শহরবাসীর একটাই প্রশ্ন—এ কি বড় বিপদের ইঙ্গিত? বিশেষজ্ঞদের বার্তা স্পষ্ট, প্রকৃতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যের ফল ভুগতেই হচ্ছে। এখনই পরিবেশ রক্ষায় সচেতন না হলে ভবিষ্যৎ আরও কঠিন হতে পারে।




















