উত্তর 24 পরগণা – বিধানসভা নির্বাচনের আগে উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতে প্রকাশ্যে সামনে এল বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের তীব্র রূপ। দলেরই এক মহিলা নেত্রীকে মারধর করে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির এক ওয়ার্ড সভাপতির বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে বারাসত পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিজয়নগর এলাকায়। ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তীব্র চর্চা।
আহত বিজেপি নেত্রী সুভদ্রা অধিকারীকে গুরুতর অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছে বারাসত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ওয়ার্ড সভাপতি সুদর্শন দাসকে গ্রেফতার করেছে বারাসত থানার পুলিশ। এদিন তাঁকে বারাসত আদালতে পেশ করা হলে বিচারক জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।
জানা গিয়েছে, গত পুরসভা নির্বাচনে বারাসত পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন সুভদ্রা অধিকারী। সেই সময় থেকেই এলাকায় প্রভাব বিস্তার এবং দলীয় আধিপত্য নিয়ে তাঁর সঙ্গে ওয়ার্ড সভাপতি সুদর্শন দাসের বিরোধ তৈরি হয়। অভিযোগ, গত বিধানসভা নির্বাচনের সময়েও তাঁদের মধ্যে বিবাদ প্রকাশ্যে এসেছিল।
সুভদ্রা অধিকারীর দাবি, বুধবার সকালে ব্যক্তিগত কাজ সেরে বাড়ি ফেরার পথে আচমকাই সুদর্শন দাস এবং তাঁর কয়েকজন সঙ্গী তাঁর উপর হামলা চালায়। বাঁশ, লাঠি, শিকল এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ। গুরুতর জখম অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। আহত নেত্রীর কথায়, এটি প্রথম ঘটনা নয়, এর আগেও সুদর্শন দাস ও তাঁর অনুগামীরা তাঁকে বিভিন্নভাবে হেনস্থা করেছে। তিনি অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর সমীর কুণ্ডু কটাক্ষ করে বলেন, বিজেপি এখনও ক্ষমতায় আসেনি, তার আগেই দলের ভিতরে এমন হিংসার ঘটনা সামনে আসছে। নিজেদের দলের মহিলা নেত্রীকেই রাস্তায় মারধর করা হচ্ছে, অথচ মুখে তারা মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় বড় কথা বলে।
তবে এই ঘটনাকে রাজনৈতিক রং দিতে নারাজ বিজেপি নেতৃত্ব। বারাসত সাংগঠনিক জেলা বিজেপি সভাপতি রাজীব পোদ্দার জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে বিষয়টি রাজনৈতিক বলে মনে হচ্ছে না। দলীয় স্তরে পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



















