রাজ্যে একটু একটু করে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। বুধবার রাজ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা আগের দিনের বেশ কিছুটা বেড়েছে। এদিন মৃত্যুর সংখ্যাও বেড়েছে। এদিন নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৭৪৮ জন। সুস্থতার হার রয়েছে মঙ্গলবারের মতোই, ৯৮.৩২%।
এদিন সুস্থ হয়েছেন ৭৪০ জন। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের রিপোর্টে জানানো হয়েছে, বিগত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে ৭৪৮। মঙ্গলবার যা ছিল ৭০৮ জন। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৫ লক্ষ ৬৮ হাজার ৩২১ জন। রাজ্যে করোনা সংক্রমণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৮, ৭৭৮। এদিন মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের। মঙ্গলবার এই সংখ্যাটা ছিল ১৩।
রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মোট আক্রান্ত ১৫ লক্ষ ৬৮ হাজার ৩২১ জনের মধ্যে এই মুহূর্তে সক্রিয় করোনা রোগী ৭ ৫৮০ জন। এদিন ৬ জন কমেছে সক্রিয়ের সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা মুক্ত হয়েছেন ৭৪০ জন। মোট করোনা মুক্ত হলেন ১৫ লক্ষ ৪১ হাজার ৯৬৩ জন।
আর ও পড়ুন নিম্নচাপের দাপটে সুন্দরবনে নদী বাঁধ ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে
কলকাতায় এদিন করোনা সংক্রমিতের সংখ্যা ১৩৯ (১৩৭)। উত্তর ২৪ পরগনায় ১২৩ (১২৫) জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। করোনায় শুধু কলকাতায় প্রাণ হারিয়েছেন ৫০৬৩ জন। আর উত্তর ২৪ পরগনায় মৃতের সংখ্যা ৪৭১৯। কলকাতায় এদিন সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৩ জন বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিন পর্যন্ত কলকাতায় মোট করোনা আক্রান্ত ৩,১৬, ৩৬৮। মঙ্গলবার কলকাতায় ৩ জনের মৃত্যুর পরে এদিন মৃত্যুর সংখ্যা ৪। এখন পর্যন্ত করোনা মুক্ত হয়েছেন মোট ৩,০৯, ৯৮৪ জন। এখনও সক্রিয় করোনা আক্রান্ত ১৩২১ জন। এদিন সক্রিয়ের তালিকায় ৩ জনের নাম যুক্ত হয়েছে।
উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত ৩,২৫, ১৬৯ জন। এদিন মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের। এখন পর্যন্ত করোনা মুক্ত হয়েছেন মোট ৩, ১৯, ২২৫ জন। এখনও সক্রিয় করোনা আক্রান্ত ১২২৫ জন। এদিন তালিকা থেকে বাদ গিয়েছেন ৯ জন। কোন জেলায় দৈনিক কত সংক্রমণ গত ২৪ ঘন্টায় আলিপুরদুয়ারে ৪ (৫), কোচবিহারে ১১ (১৩) , দার্জিলিং ৩৭ (৩০), কালিম্পং ১ (৫) , জলপাইগুড়ি ২২ (১৯), উত্তর দিনাজপুরে ২ (১), দক্ষিণ দিনাজপুরে ৭ (৯), মালদহ ১৫ (৯), মুর্শিদাবাদ ৪ (৪), নদিয়া ৫৭ (৫৮), বীরভূম ১৩ (৯), পুরুলিয়া ১ (৩), বাঁকুড়ায় ১৩ (২৪), ঝাড়গ্রাম ৫ (৫), পশ্চিম মেদিনীপুর ৩৩ (৩৯), পূর্ব মেদিনীপুর ৩২ (২৮), পূর্ব বর্ধমান ২৮ (২২), পশ্চিম বর্ধমান ২৪ (২৪), হাওড়া ৫৯ (৪৩), হুগলিতে ৫৩ (৩৯), উত্তর ২৪ পরগনায় ১২৩ (১২৫), দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৫৯ ( ৫৭) জন আক্রান্ত হয়েছেন।
আক্রান্তের নিরিখে জেলাগুলির মধ্যে এদিন প্রথমে উত্তর ২৪ পরগনা ( ১২৩), দুনম্বরে হাওড়া ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা (৫৯), তিন নম্বরে হুগলি ও নদিয়া (৫৭)। ১৭ জেলায় মৃত্যুর খবর নেই এদিন উত্তরবঙ্গের কোথাও থেকে মৃত্যুর খবর নেই। আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহে কোনও মৃত্যু হয়নি। মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, হুগলি থেকে মৃত্যুর কোনও খবর নেই।
এদিন সব থেকে বেশি ৫ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনায়। ১ জন করে মৃত্যু হয়েছে বাঁকুড়া, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম বর্ধমান, হুগলিতে। ২ জনের মৃত্যু হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। নদিয়া, পূর্ব মেদিনীপুর, হাওড়ায় একজন করে রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এদিন যে ৮ জেলায় সক্রিয় রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, সেগুলি হল মালদহ (৫), মুর্শিদাবাদ (১), নদিয়া (২), বীরভূম (৪), পূর্ব বর্ধমান (৪), পশ্চিম বর্ধমান (৬), হাওড়া (১৪), হুগলি (১০)।
রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের বুলেটিনে জানানো হয়েছে এদিন পর্যন্ত করোনা টেস্ট হয়েছে ১ কোটি ৮১ লক্ষ ০৬ হাজার ১৮৪। ১৪৭ টি ল্যাবরেটরিতে এই পরীক্ষা হচ্ছে রাজ্য জুড়ে। এদিন পরীক্ষা হয়েছে ৪৩, ২৯১ জনের। মোট পরীক্ষার নিরিখে করোনা সক্রিতার হার ১.৭৩ শতাংশ ( মঙ্গলবার যা ছিল ১.৯৩%) । প্রতি ১০ লক্ষে পরীক্ষা হয়েছে ২, ০১, ১৮০ জনের। আরটিপিসিআর আর অ্যান্টিজেন টেস্টের রেশিও হল ৩৯:৬১। ২৯ সেপ্টেম্বর ভ্যাকসিন প্রাপকের সংখ্যা এদিন সারা রাজ্যে ভ্যাকসিন পেয়েছেন ৪,৪৩,২৬১ জন। প্রথম ডোজ পেয়েছেন ২, ৮৪, ২২৩ জন। দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছেন ১,৫৯, ০৩৮ জন। এদিন পর্যন্ত রাজ্যে ভ্যাকসিন পেয়েছেন ৫,৬৭, ১৮, ৩৪৭ জন। যাঁদের মধ্যে প্রথম ডোজ পেয়েছেন ৪, ০৩, ১৫, ৭২১ জন। আর দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছেন ১, ৬৪, ০২, ৬২৬ জন।



















