রাজ্য – বছর শেষ হতে আর মাত্র দু’দিন বাকি। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ময়দানে তৎপরতা তুঙ্গে। একের পর এক কর্মসূচি, জনসভা ও সফরের মধ্যেই মঙ্গলবার জেলা সফরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন বাঁকুড়ায় একটি মেগা জনসভা করার কথা রয়েছে তাঁর।
মঙ্গলবার বড়জোড়া বিধানসভা কেন্দ্রে বড় জনসভায় বক্তব্য রাখবেন মুখ্যমন্ত্রী। দুপুরে হাওড়ার ডুমুরজলা থেকে হেলিকপ্টারে বাঁকুড়ায় পৌঁছবেন তিনি। বড়জোড়ার বীরসিংহ ময়দানে তৈরি করা হয়েছে বিশাল সভামঞ্চ। প্রায় ১২০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৬০ ফুট প্রস্থের এই মঞ্চের সামনে মিডিয়া গ্যালারি ও ভিআইপি অতিথিদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এই সভায় দলের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি শিল্পাঞ্চল ও খনি সংলগ্ন এলাকার বহু মানুষের উপস্থিতির সম্ভাবনা রয়েছে।
সভা শেষে বিকেলের মধ্যেই কলকাতায় ফিরে আসার কথা মুখ্যমন্ত্রীর। রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সফরকে কেন্দ্র করে গোটা বাঁকুড়া জেলাজুড়ে তৎপরতা বেড়েছে। লোকসভা ও বিধানসভা—দু’ক্ষেত্রেই বাঁকুড়ায় বিজেপির প্রভাব রয়েছে বলে মানছেন তৃণমূলের একাংশ। তাই আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই জেলাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাইছে শাসক দল, এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।
অন্যদিকে, তিনদিনের সফরে সোমবার রাতেই কলকাতায় পৌঁছেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এই সফরে কোনও জনসভা বা সমাবেশ না রেখে পুরোপুরি সাংগঠনিক বৈঠকেই জোর দিয়েছেন তিনি। বিজেপি সূত্রে খবর, বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে দলের সাংগঠনিক অবস্থা খতিয়ে দেখা এবং রণকৌশল চূড়ান্ত করাই এই সফরের মূল উদ্দেশ্য।
সোমবার রাতেই রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে একটি বৈঠক করেন অমিত শাহ। মঙ্গলবারও রয়েছে একাধিক কর্মসূচি। দুপুর ২টো নাগাদ বিধাননগরে দীর্ঘ একটি সাংগঠনিক বৈঠকে বসার কথা তাঁর, যা প্রায় দু’ঘণ্টা চলতে পারে। এরপর বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ আরও একটি বৈঠক করবেন তিনি। সব বৈঠক শেষে নিউটাউনের হোটেলে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর।
এছাড়াও মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক করতে পারেন অমিত শাহ, এমনটাই দাবি রাজ্য বিজেপির একাংশের। সেই বৈঠকে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর ইস্যুতে কেন্দ্র ও বিজেপির অবস্থান স্পষ্ট হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিধানসভা ভোটের আগে শাসক ও বিরোধী—দু’পক্ষেরই এই তৎপরতা রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে তুলছে।




















