
নিজস্ব সংবাদদাতা,বীরভূম ,১৯ শে জুলাই :বিপজ্জনক ইলামবাজার সেতু, প্রশাসনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চলছে ভারী গাড়ি।রাজ্যের ৯৫ টি সেতুর স্বাস্থ্য বেহাল, উদ্বিগ্ন পূর্ত দপ্তর। এই সকল সেতুর তালিকায় রয়েছে বীরভূমের ইলামবাজারের অজয় নদের ওপর থাকা অজয় সেতুও। আর এই সেতুকে দুর্বল ঘোষণা করার পরও প্রশাসনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে দিব্যি চলছে গাড়ি গাড়ি।
লাল মাটির দেশ বীরভূমের সাথে বর্ধমানের যোগাযোগের অন্যতম লাইফলাইন হলো অজয় নদের উপর থাকা এই অজয় সেতু। ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর দাঁড়িয়ে থাকা এই সেতু যেমন বীরভূমকে যুক্ত করেছে বর্ধমানের সাথে, ঠিক তেমনই পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য জেলা ও রাজধানী কলকাতার সাথে যুক্ত করেছে এই সেতু। রোজ হাজার হাজার মানুষের যানবাহন নিয়ে যাতায়াত এই সেতুর উপর দিয়ে। কিন্তু কেমন আছে এই সেতু!
দুর্বল সেতু হিসাবে এই সেতু ঘোষিত হয়েছে বহুদিন আগেই। বিপদের রুখতে বাড়ি যান চলাচলে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা, প্রশাসনের তরফ থেকে বেঁধে দেওয়া হয়েছে গতিবেগও। সেতুর বুক বরাবর চওড়া ফাটল, বিভিন্ন জায়গায় পিচ উঠে বেরিয়ে পড়েছে কঙ্কাল, ব্রিজের তলায় শ্যাওলার আস্তরণ। ভারী গাড়ি পের হলেই কেঁপে ওঠে গোটা সেতু।
কিন্তু তা সত্ত্বেও প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তি এবং নিষেধাজ্ঞাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে দিনের পর দিন এই সেতুর উপর দিয়েই চলেছে বড় বড় গাড়ি এমনকি ওভারলোড গাড়িও। এমনই অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। প্রশাসনের তরফ থেকে রাখা হয়েছে শুধু নিষেধাজ্ঞার বিজ্ঞপ্তি, কিন্তু গাড়ি আটকানোর ব্যবস্থাও নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এই সেতুর নির্মাণ হয়েছিল ১৯৬২ সালে কংগ্রেসের জামানায়। সেতুর দৈর্ঘ্য ৩৫০ মিটার। আর এই ৫৭ বছরেই বেহাল দশা অজয় সেতুর। বেহাল দশার জন্য এর আগেও একবার ব্রিজের উপর দিয়ে যান চলাচল পুরোপুরি ভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল প্রশাসনের তরফ থেকে। তারপর মেরামতি করে আবার খুলে দেওয়া হয় ব্রিজ। কিন্তু প্রশাসনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে যেভাবে দিনের-পর-দিন সেতুর উপর দিয়ে চলছে ভারী গাড়ি, তাতে সেতুকে আরও দুর্বল করে তুলছে।
তবে রাজ্য প্রশাসনের তরফ থেকে এ বিষয়ে সর্তকতা অবলম্বন করার পাশাপাশি পাশেই তৈরি করা হচ্ছে নতুন একটি সেতু। প্ৰশাসনের রয়েছে আশ্বাস, কিন্তু মানুষ কতটা আশ্বস্ত!



















