বিহারের রাজনীতিতে বড় জল্পনা, রাজ্যসভায় যেতে পারেন নীতীশ কুমার! বিজেপির নিজস্ব মুখ্যমন্ত্রীর সম্ভাবনা?

বিহারের রাজনীতিতে বড় জল্পনা, রাজ্যসভায় যেতে পারেন নীতীশ কুমার! বিজেপির নিজস্ব মুখ্যমন্ত্রীর সম্ভাবনা?

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


বিহার – বিহারের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে। রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা, মুখ্যমন্ত্রী Nitish Kumar রাজ্যসভায় যেতে পারেন। এমনটা হলে প্রথমবারের মতো বিহারে বিজেপির নিজস্ব মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পথ খুলে যেতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। দীর্ঘদিনের জোট রাজনীতির সমীকরণ, সংখ্যার অঙ্ক, নেতৃত্বের প্রশ্ন এবং বয়সজনিত বিষয়—সব মিলিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন মোড় নিতে পারে বলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বর্তমানে বিহার বিধানসভায় বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা ৮৯, আর নীতীশ কুমারের দল জেডিইউ-এর বিধায়ক ৮৫। বহু বছর ধরে জোট রাজনীতিতে নীতীশ কুমারকে ‘বড় ভাই’ হিসেবেই দেখা হয়েছে। কিন্তু এখন সংখ্যার অঙ্ক বদলে যাওয়ায় পরিস্থিতিও পাল্টেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপি দীর্ঘদিন সংখ্যায় এগিয়ে থেকেও জোট বজায় রাখার স্বার্থে মুখ্যমন্ত্রী পদ ছেড়ে দিয়েছিল। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি জেডিইউ-এর চেয়ে একটি বেশি আসনে লড়েছিল, যা অনেকের মতে জোটের শক্তির ভারসাম্য বদলের স্পষ্ট ইঙ্গিত।
হিন্দি বলয়ের রাজনীতিতে বিজেপি দীর্ঘদিন ধরেই শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান এবং ছত্তীসগড়—এই সব রাজ্যে বিজেপির নিজস্ব মুখ্যমন্ত্রী রয়েছে। কিন্তু বিহারে এখনও পর্যন্ত দলটি এককভাবে নেতৃত্বে আসতে পারেনি। নব্বইয়ের দশক থেকে বিহারের রাজনীতি মূলত Lalu Prasad Yadav এবং নীতীশ কুমারকে কেন্দ্র করেই ঘুরেছে। সেই কারণেই বিজেপির ভিতরে দীর্ঘদিন ধরে একটি রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা রয়েছে—বিহারেও নিজেদের মুখ্যমন্ত্রী প্রতিষ্ঠা করা।
এদিকে নীতীশ কুমারের বয়স এখন ৭৫ বছর। গত কয়েক বছরে তাঁর স্বাস্থ্য নিয়েও রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা হয়েছে। সূত্রের দাবি, জেডিইউ নেতৃত্ব অনেক সময় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগও সীমিত রেখেছিল। তিনি জনসমক্ষে তুলনামূলক কম আসতেন এবং সাংবাদিকদের সঙ্গেও কম কথা বলতেন। বিজেপির একাংশের মতে, দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দেওয়ার পর এবার নতুন প্রজন্মকে সামনে আনার সময় এসেছে।
তবে বিজেপি সরাসরি নীতীশ কুমারকে সরিয়ে দেওয়ার বার্তা দিতে চাইছে না বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা। বরং তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠিয়ে সম্মানজনক বিদায় দেওয়ার কৌশল নেওয়া হতে পারে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, বিশেষ করে Amit Shah-এর মতো নেতারা এমন একটি রাজনৈতিক পথ বেছে নিতে পারেন যাতে নীতীশ কুমারের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকে এবং তিনি অন্য ভূমিকায় সক্রিয় থাকতে পারেন।
এদিকে জেডিইউ-এর ভিতরেও উত্তরাধিকার নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। নীতীশ কুমারের ছেলে Nishant Kumar রাজনীতিতে প্রবেশ করতে পারেন বলে জল্পনা চলছে। দলের একাধিক নেতা ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে বলেছেন যে ভবিষ্যতে তাঁকে সক্রিয় রাজনীতিতে দেখা যেতে পারে। এমনকি ভবিষ্যতে তিনি উপমুখ্যমন্ত্রীও হতে পারেন—এমন সম্ভাবনার কথাও রাজনৈতিক মহলে শোনা যাচ্ছে।
জোটের ভেতরেও কিছু প্রশাসনিক অসন্তোষ সামনে এসেছে। বিশেষ করে মদ নিষিদ্ধকরণ নীতি নিয়ে এনডিএ জোটের শরিকদের মধ্যে মতভেদ তৈরি হয়েছে। এই বিষয়ে সমালোচনা করেছেন Jitan Ram Manjhi এবং Chirag Paswan-এর মতো নেতারা। এই ধরনের মতভেদও নেতৃত্ব পরিবর্তনের আলোচনাকে আরও জোরদার করছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সবচেয়ে বড় বিষয় হল, এই সমস্ত জল্পনা-কল্পনার মধ্যেও নীতীশ কুমার এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি। বিহারের রাজনীতিতে তিনি বহুবার জোটের সমীকরণ বদলেছেন। এই কারণেই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা তাঁকে প্রায়ই ‘পল্টু রাম’ বলে কটাক্ষ করেন। ফলে শেষ মুহূর্তে আবার নতুন সমীকরণ তৈরি হবে কি না, সেই প্রশ্নও থেকেই যাচ্ছে।
নীতীশ কুমার বিহারের ইতিহাসে অন্যতম প্রভাবশালী নেতা। তিনি মোট ১০ বার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন এবং প্রায় দুই দশক ধরে রাজ্যের ক্ষমতার কেন্দ্রে রয়েছেন। তাই এখন রাজনৈতিক মহলের বড় প্রশ্ন—নীতীশ যুগের অবসান কি সত্যিই সামনে, নাকি আবারও নিজের রাজনৈতিক কৌশলে পরিস্থিতি বদলে দেবেন তিনি?

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top