বিহার – বিহার বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট শেষ হতেই শুরু হয়েছে প্রবল বিতর্ক। সমস্তিপুরের রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে ভোটার ভেরিফিয়েবল পেপার অডিট ট্রেইল বা ভিভিপ্যাট (VVPAT) স্লিপের গুচ্ছ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে সেই ভিডিও, যা ঘিরে রীতিমতো উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। বিরোধী দল আরজেডি (RJD) অভিযোগ তুলেছে—এই স্লিপগুলি আসল ভোটের ইভিএম (EVM) থেকেই বের করে ফেলা হয়েছে। যদিও প্রশাসন সেই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে সমস্তিপুরের কেএসআর কলেজের সামনে। রাস্তার ধারে, এমনকি নালায়ও ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল ভোটের ভিভিপ্যাট স্লিপ। স্থানীয় বাসিন্দারা তা দেখে বিস্মিত হয়ে কাগজগুলি কুড়িয়ে আনেন। মুহূর্তের মধ্যেই খবর ছড়িয়ে পড়ে গোটা জেলায়। বিরোধীরা অভিযোগ তোলে ভোটে কারচুপির।
তবে জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এগুলি আসল ভোটের নয়। বৃহস্পতিবার প্রথম দফার ভোটের আগে যে মক পোল (Mock Poll) হয়েছিল, সেই পরীক্ষামূলক ভোটের স্লিপই নাকি ফেলে দেওয়া হয়েছে। সমস্তিপুরের জেলাশাসক রোশন কুশওয়াহা বলেন, “তদন্তে জানা গিয়েছে এগুলি মক পোলের পর বাদ দেওয়া অতিরিক্ত স্লিপ। ইভিএম নম্বর দেখে দায়ী পোলিং স্টাফদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশনও নড়েচড়ে বসেছে। জাতীয় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানিয়েছেন, ঘটনাটির দায়ে সংশ্লিষ্ট বুথের অ্যাসিস্টেন্ট রিটার্নিং অফিসার (ARO)-কে সাসপেন্ড করা হয়েছে। কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআরও দায়ের করা হয়েছে। জেলা প্রশাসককে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিস্তারিত তদন্তের রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ভোট শুরু হওয়ার আগে প্রতিটি বুথে মক পোল করা হয়, যাতে ইভিএম ও ভিভিপ্যাট সঠিকভাবে কাজ করছে কি না তা পরীক্ষা করা যায়। এই প্রক্রিয়া শেষে সমস্ত ডেটা মুছে ফেলা হয়। কিন্তু সেই স্লিপগুলিই অসাবধানবশত বাইরে ফেলে রাখার ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে নির্বাচনী শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিয়ে।



















