বীরভূমে পাথর খাদানে ধস, তিন শ্রমিকের মৃত্যু; নির্বাচনী আবহে তীব্র রাজনৈতিক তরজা

বীরভূমে পাথর খাদানে ধস, তিন শ্রমিকের মৃত্যু; নির্বাচনী আবহে তীব্র রাজনৈতিক তরজা

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


বীরভূম – বিধানসভা নির্বাচনের আবহে ফের পাথর খাদানে ধসের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়াল বীরভূমে। মুরারই থানার গোপালপুর এলাকায় একটি পাথর খাদানে ধস নেমে অন্তত তিনজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। আরও কয়েকজন শ্রমিক গুরুতর জখম হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার সকালে গোপালপুর গ্রামের ওই পাথর খাদানে প্রায় ১২ থেকে ১৪ জন শ্রমিক পাথর কাটার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। শ্রমিকরা খাদানের নিচে নেমে ড্রিল মেশিন দিয়ে কাজ করছিলেন। সেই সময় আচমকা উপর দিকের মাটি ও পাথরের অংশ ধসে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে খাদানের ভেতরে কর্মরত একাধিক শ্রমিক চাপা পড়ে যান।
ধস নামার শব্দ পেয়ে আশপাশের অন্যান্য খাদানের শ্রমিকেরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত ও চাপা পড়া শ্রমিকদের একে একে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকেই তিন শ্রমিকের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় কয়েকজনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ফলে মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।
আহত শ্রমিক মনো মোসাই জানান, খাদানের নিচে কাজ চলাকালীন হঠাৎ উপরের মাটি ধসে পড়ে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, প্রায় ১৪ জন শ্রমিক সেখানে কাজ করছিলেন। আচমকা ধসের ফলে অনেকে মাটির নিচে চাপা পড়েন। পরে অন্য শ্রমিকেরা এসে উদ্ধার করেন এবং আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর কথায়, সেখানে ব্লাস্টিং হচ্ছিল না, বরং মাটির অংশই আচমকা ধসে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, যে পাথর খাদানে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেটির মালিক বীরভূম জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ সেরাজুল ইসলাম। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
বিজেপি নেতা দীপক দাস অভিযোগ করেছেন, বীরভূমে বহু পাথর খাদান নিয়মনীতি না মেনেই পরিচালিত হয়। তাঁর দাবি, নিরাপত্তা ও দূষণ সংক্রান্ত বিধি মানা হয়নি বলেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। একইসঙ্গে তিনি কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি জানান। অপর বিজেপি নেতা ধ্রুব সাহা বলেন, বিধানসভা নির্বাচনের মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট চালু থাকা অবস্থায় যদি কোনও অনিয়ম ঘটে, তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। মৃত শ্রমিকদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ ও সরকারি চাকরির দাবিও তুলেছেন তিনি।
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের বীরভূম জেলা সহ-সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বিষয়টি সম্পর্কে পূর্ণ তথ্য এখনও তাঁদের কাছে স্পষ্ট নয়। ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে যদি দুর্ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে প্রথম অগ্রাধিকার হবে আহতদের উদ্ধার ও চিকিৎসা। পাশাপাশি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
সব মিলিয়ে নির্বাচন আবহে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাকে ঘিরে বীরভূমের রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। একদিকে বিরোধীদের অভিযোগ ও কঠোর পদক্ষেপের দাবি, অন্যদিকে শাসকদলের তদন্তের অবস্থান—ঘটনাটি আগামী দিনে আরও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে বলে মনে করছে মহলের একাংশ।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top