বৃদ্ধাশ্রমের সমস্ত কাজ করানো থেকে নিজের বাড়ির কাজ পর্যন্ত করানোর অভিযোগ উঠেছে  বৃদ্ধাশ্রমের মালকিনের বিরুদ্ধে!

বৃদ্ধাশ্রমের সমস্ত কাজ করানো থেকে নিজের বাড়ির কাজ পর্যন্ত করানোর অভিযোগ উঠেছে  বৃদ্ধাশ্রমের মালকিনের বিরুদ্ধে!

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram

মধ্যমগ্রাম – ছেলে আমার মস্ত বড় মস্ত অফিসার, বৃদ্ধাশ্রম ‘ নিয়ে কয়েক বছর আগে গান গিয়েছিলেন জনপ্রিয় গায়ক নচিকেতা।ওই গানের প্রতিটি কথাই হুবহু মিলে গেছে ষাটোর্ধ শর্মিষ্ঠা মুস্তাফির জীবনের সঙ্গে।কলকাতার হাতিবাগানে তাঁর বাড়ি রয়েছে।কিন্তু ওই বাড়িতে ছেলে,বৌমার জায়গা হয়েছে।কিন্তু মায়ের থাকার জায়গা হয় নি। স্বামীর মৃত্যুর পর একমাত্র ছেলে বৃদ্ধা মা’কে পাঠিয়ে দিয়েছিল মধ্যমগ্রামের দিগবেড়িয়ার একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন বৃদ্ধাশ্রমে(নিবেদিতা ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন) ।

ওই বৃদ্ধাশ্রমেই জীবনের বাকি দিনটা কোনরকমে কাটিয়ে দেবেন ভেবেছিলেন কলকাতার হাতিবাগানের বাসিন্দা শর্মিষ্ঠা মুস্তাফি।তাঁর বয়স এখন ষাটোর্ধ।কিন্তু বৃদ্ধাশ্রমে এসেও বিপত্তি পিছু ছাড়ে নি শর্মিষ্ঠা দেবীর। এককালীন কয়েক লক্ষ টাকা নেওয়ার পরেও ষাটোর্ধ শর্মিষ্ঠা দেবীকে দিয়ে বৃদ্ধাশ্রমের সমস্ত কাজ করানো থেকে নিজের বাড়ির কাজ পর্যন্ত করানোর অভিযোগ উঠেছে মধ্যমগ্রামের দিগবেড়িয়ার নিবেদিতা ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন বৃদ্ধাশ্রমের মালকিন নীপা রায় সরকারের বিরুদ্ধে।শুধু তাই নয়,পরিচারিকার কাজ করতে অস্বীকার করায় মারধর সহ প্রাণে মারার হুমকির মুখেও পড়তে হয়েছে শর্মিষ্ঠাকে।

প্রতিদিন বিষ জাতীয় ট্যাবলেট(Sizopin 100mg ট্যাবলেট ) খাইয়ে প্রাণে মারার চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে বৃদ্ধাশ্রমের মালকিনের বিরুদ্ধে। শেষে বিপদ বুঝে দিন তিন আগে ওই বৃদ্ধাশ্রম থেকে পালিয়ে এসে মধ্যমগ্রাম থানার পুলিশের কাছে বৃদ্ধাশ্রমের মালকিন নিপা রায় সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন শর্মিষ্ঠা দেবী।যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নিপা রায় সরকার।অভিযোগ নীপা রায় সরকার কে ডেকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করলেও পরবর্তীতে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।অবশেষে অসহায় বৃদ্ধা শর্মিষ্ঠা দেবী বারাসত পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ হয়,তবে শর্মিষ্ঠা দেবীর কথায়,সেখানেও তিনি কোন সুরাহা পাইনি।রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থেকে মুখ্যসচিব,মানবাধিকার কমিশন,সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার, মধ্যমগ্রাম পুরসভা সহ পুলিশের উচ্চপদস্থ দপ্তরে অভিযোগ জানিয়েও কোন সুরাহা মেলেনি,তাহলে এই বৃদ্ধা যাবে কোথায়,এখন বড় প্রশ্ন অসহায় বৃদ্ধা শর্মিষ্ঠা দেবীর কাছে।গত কয়েকদিন রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ালেও তার ছেলেও কোন খোঁজ নেয়নি।


আবাসিক বৃদ্ধাকে জোর করে বৃদ্ধাশ্রমের কাজ করানো থেকে বাড়িতে কাজ করানোর মত অভিযোগ থাকলেও পুলিশ প্রশাসন এখনো পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ নেয়নি বলেই শর্মিষ্ঠা দেবী অভিযোগ করেন সংবাদমাধ্যমের সামনে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top