
নিজস্ব সংবাদদাতা,দক্ষিণ ২৪ পরগণা,১৯ শে অক্টোবর : বৃদ্ধ বাবা ও মাকে বেধড়ক মারধোরের অভিযোগ উঠলো ছেলে ও বৌমাদের বিরুদ্ধে। ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন বছর সত্তরের ফয়জুদ্দিন সরদার ও তার স্ত্রী পঁয়ষট্টি বছরের জরিনা সরদার। বৃহস্পতিবার ঘটনাটি ঘটে ক্যানিংয়ের পূর্ব শিবনগর গ্রামে। এ বিষয়ে শুক্রবার ক্যানিং থানায় তিন ছেলে ও বৌমাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ঐ বৃদ্ধ দম্পতি। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ক্যানিং থানার পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে খবর, ঐ দম্পতির তিন ছেলে ও চার মেয়ে। সকলের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। সম্পত্তি সকলের মধ্যে ভাগ করে দিয়ে ফয়জুদ্দিন নিজে একটি ছোট ঘরে থাকেন সস্ত্রীক। সন্তানরা কেউই তাদেরকে খাওয়া পড়া না দেওয়ায় বাড়ির গাছের নারকেল, সুপারি, বেল সহ বিভিন্ন ফলমূল বিক্রি করে কোনমতে সংসার চালান ঐ বৃদ্ধ দম্পতি। অভিযোগ বৃহস্পতিবার বাড়ির কয়েকটি গাছ কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন ছেলে বৌমারা। সেই মোতাবেক একটি সজনে গাছ ও কেটে ফেলেন তারা। গাছ কাটতে দেখে প্রতিবাদ করলে মেজ ছেলে সওকত সরদার চড়াও হয় ফয়জুদ্দিনের উপর। বেধড়ক মারধোর করেন তাকে। স্বামীকে মার খেতে দেখে জরিনা সরদার বাঁচাতে গেলে বৌমা জামিলা বিবি তাকে মারধোর করা হয় বলে অভিযোগ। বটীর বাট দিয়ে জরিনাকে মারধোর করা হয়। বৃদ্ধ বাবা মাকে মার খেতে দেখে অন্যান্য ছেলে বৌমারা তাদেরকে উদ্ধার না করে উল্টে অন্য দুই ছেলে গোলাম রসুল সরদার ও রাজ্জাক সরদার ও তাদের স্ত্রী রেহেনা সরদার, নার্গিস সরদাররাও মারধোর করে ঐ বৃদ্ধ দম্পতিকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। গুরুতর জখম অবস্থায় ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়ে শুক্রবার সকালে তিন ছেলে ও বৌমাদের বিরুদ্ধে ক্যানিং থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তারা। অভিযুক্ত ছেলেদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন ঐ বৃদ্ধ দম্পতি।


















