পূর্ব মেদিনীপুর – আনন্দপুরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড থেকে কোনওক্রমে প্রাণে বেঁচে ফিরে এসেছেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুক থানার শহীদ মাতঙ্গিনী ব্লকের খন্ডগ্রামের বাসিন্দা বিমল ভৌমিক। তবে ঘরে ফেরার পরেও আতঙ্ক তাঁর পিছু ছাড়ছে না। বিমল জানান, গভীর রাতে আগুন লাগার বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। চোখের সামনে আগুনের লেলিহান শিখা দেখে কোনওমতে বাইরে ছিটকে বেরিয়ে আসেন তিনি। তার পরেই জ্ঞান হারান। কীভাবে এক কাপড়ে বাড়ি ফিরে এসেছেন, তা নিজেও স্পষ্ট মনে করতে পারছেন না।
বিমলের আতঙ্কের মূল কারণ, তাঁর পাশেই আরও বেশ কয়েকজন মানুষ ঘুমিয়ে ছিলেন, যাঁদের এখনও কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। সেই চিন্তাই তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছে। আগুনের ভয়াবহতা এবং চোখের সামনে দেখা দৃশ্য বারবার ফিরে আসছে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, তমলুকের বাসিন্দা সুশান্ত জানা জানান, ঘটনার দিন রাত ন’টা নাগাদ খেয়ে শুয়ে পড়েছিলেন। হঠাৎ এক আত্মীয় ‘আগুন, আগুন’ বলে চিৎকার করতেই ঘুম ভাঙে। ফোন হাতে নিয়ে উঠে দেখেন চারদিক ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে। সেই মুহূর্তে কীভাবে বাইরে বেরিয়ে এসেছেন, তা তাঁর নিজেরও মনে নেই। আগুনের হলকায় তিনি নিজেও আহত হয়েছেন বলে জানান।
সুশান্তের অভিযোগ, দমকল অনেক দেরিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। নিজেদের উদ্ধার নিজেদেরই করতে হয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে দৌড়তে দৌড়তেই বাইরে বেরিয়ে আসেন তাঁরা। পরে সংস্থার লোকজন এসে তাঁকে পিজি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তিনি বাড়ি ফিরে আসেন। তবে আগুনের সেই বিভীষিকা আজও তাঁকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে।




















