কলকাতা – নদিয়ার তেহট্ট থানা এলাকার জলঙ্গি নদীর তীরে বেআইনি মাটি কাটার অভিযোগ ঘিরে কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট। এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে রাজ্যের সব জেলাশাসককে বেআইনি মাটি কাটা (Manual Digging) বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, দু’সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে সার্কুলার জারি করে তার কপি আদালতে পেশ করতে হবে।
আদালতে মামলাকারী মানবাধিকার সংগঠনের কর্মীর আইনজীবী জানান, সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রতিদিন ৭০ থেকে ১০০ ফুট গভীর করে মাটি কাটা হচ্ছে। এর ফলে ইতিমধ্যেই প্রায় ২ থেকে আড়াই হাজার ফুট দীর্ঘ বিশাল গর্ত তৈরি হয়েছে। কুমির মারি ড্যাম থেকে শুরু করে চাপড়া-সহ নদিয়ার একাধিক এলাকায় একই ধরনের বেআইনি মাটি কাটার ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ তোলা হয়।
মামলায় আরও গুরুতর অভিযোগ করে বলা হয়, ইটভাটার মালিকদের একাংশ স্থানীয় থানা ও প্রশাসনের সঙ্গে অবৈধ যোগসাজশ করে মোটা টাকার বিনিময়ে এই বেআইনি কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে এলাকার সাধারণ মানুষ ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়ছেন। চাষের জমি ও বসতভিটে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি বারবার প্রশাসনকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।
আইনজীবীর দাবি, নদিয়ার জেলাশাসকের কাছেও লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছিল, কিন্তু সেখান থেকেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন মামলাকারীরা। আদালতে জানানো হয়, গত বছর অন্য একটি মামলাতেও হাইকোর্ট একই ধরনের নির্দেশ দিয়েছিল, তবে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সেই নির্দেশ সম্পর্কে অবগত নন বলে আদালতে জানান।
এই প্রেক্ষাপটেই রাজ্য প্রশাসনের উদাসীনতার কথা উল্লেখ করে আদালত এবার আরও কড়া নির্দেশ দেয়। আগামী তিন সপ্তাহ পর এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে। তখন হাইকোর্ট আর কী নির্দেশ দেয়, সেদিকেই এখন নজর।




















