মুর্শিদাবাদ – মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার অশান্তির ঘটনার নেপথ্যে বিজেপি এবং এক ‘নতুন গদ্দার’-এর ইন্ধন রয়েছে বলে বিস্ফোরক দাবি করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বহরমপুরে রোড-শো থেকে তিনি বলেন, ভিন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর ধারাবাহিক হামলার মতোই বেলডাঙার ঘটনাতেও পরিকল্পিতভাবে অশান্তি ছড়ানো হয়েছে। বিজেপি শাসিত ডাবল ইঞ্জিন রাজ্যগুলিতেই এই ধরনের অত্যাচার হচ্ছে বলে আগেই অভিযোগ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এদিন অভিষেক নাম না করেই বেলডাঙার ঘটনায় বিজেপি ও তৃণমূলের সাসপেন্ডেড বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে একসারিতে দাঁড় করান। তাঁর বক্তব্য, বিজেপির মদতেই এই অশান্তির আগুন জ্বালানো হয়েছে এবং এই মাটিতে এক ‘নতুন গদ্দার’ তৈরি হয়েছে। যদিও সরাসরি কারও নাম নেননি তিনি।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভাষণ প্রসঙ্গেও কটাক্ষ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘ভারত মাতার জয়’ বলে বক্তৃতা শুরু করে প্রধানমন্ত্রী বাংলা ভাষায় দু’-একটি কথা বললেও গোটা ভাষণই দেন হিন্দিতে। অথচ মতুয়া ও নমঃশূদ্র সম্প্রদায়ের নিঃশর্ত নাগরিকত্ব নিয়ে কোনও কথাই বলেননি। বিজেপি হিন্দু-মুসলিম বিভাজনের রাজনীতি করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অভিষেকের বক্তব্য, যে মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করা হচ্ছে, সেই মঞ্চ কে তৈরি করেছে—হিন্দু না মুসলমান, তা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তোলে না। খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পেরেছেন, বেলডাঙার ঘটনার পিছনে বিজেপির নেতাদেরই ইন্ধন রয়েছে এবং সেই সঙ্গে তৈরি হয়েছে এক নতুন গদ্দার।
নাম না করেই সাসপেন্ডেড বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে নিশানা করে অভিষেক বলেন, বিজেপির বাবুদের মদতেই বেলডাঙায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তিনি সাধারণ মানুষকে কোনও উস্কানিতে পা না দেওয়ার আহ্বান জানান এবং শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর জোর দেন। ধর্মের নামে বিভাজন ঘটিয়ে যারা অশান্তি ছড়াতে চাইছে, তাদের বিরুদ্ধে একজোট হওয়ার ডাক দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।
এদিন বহরমপুরের প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ অধীররঞ্জন চৌধুরীকেও সরাসরি নিশানা করেন অভিষেক। পাশাপাশি নাম না করেই বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীকেও আক্রমণ করেন ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ। তাঁর কথায়, একজন গদ্দার, একজন মীরজাফর ও একজন বিজেপির ডামি প্রার্থীকে মানুষ ইতিমধ্যেই বিদায় দিয়েছে। এবার এই নতুন গদ্দারকেও হারাতে হবে।
অভিষেক আরও বলেন, মুর্শিদাবাদ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, তাহলে তৃণমূল কংগ্রেসকে ২৫০-র বেশি আসন পাওয়া থেকে কেউ আটকাতে পারবে না। বিজেপির বিভাজনের রাজনীতি যদি কোনও বুথে ঢুকে পড়ে, তাহলে মুর্শিদাবাদ দুর্বল হবে এবং বিজেপি শক্তিশালী হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।




















