মুর্শিদাবাদ – বেলডাঙার ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টের কেস ডায়েরি হস্তান্তরের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য সরকার। তবে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ রাজ্যের আবেদন গ্রহণ করেনি। শুনানিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি মন্তব্য করেন, কেস ডায়েরি না পেলে এনআইএ কীভাবে নিরপেক্ষভাবে রিপোর্ট দেবে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানান, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশকে তাঁদের দৃষ্টিতে যুক্তিসঙ্গত বলেই মনে হয়েছে।
রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুরোধের পর আদালত নির্দেশ দেয়, বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট নির্ধারিত তারিখে শুনানি করুক। অর্থাৎ আপাতত উচ্চ আদালতের নির্দেশই কার্যকর থাকছে বলে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বেলডাঙায় উত্তেজনা ছড়ায় এবং নৈরাজ্যের পরিস্থিতি তৈরি হয়। ঘটনায় প্রায় ৩৬ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় তদন্তভার নেয় এনআইএ। একই সঙ্গে কলকাতা হাইকোর্টে এই বিষয়ে একাধিক জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও একটি মামলা করেন।
নিম্ন আদালতেও বিষয়টি চলছিল। তবে অভিযোগ ওঠে, তদন্তের প্রয়োজনে পুলিশের কাছ থেকে কেস ডায়েরি এনআইএ-কে দেওয়া হয়নি। কেস ডায়েরি না পাওয়ায় তদন্ত কীভাবে এগোবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল আদালতেও। বিচারপ্রক্রিয়ার সময় এই বিষয়টি বারবার উঠে আসে। শেষ পর্যন্ত মামলার জল গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ স্পষ্ট জানায়, এনআইএ-র তদন্তে তারা হস্তক্ষেপ করবে না। তদন্তের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার দিকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে ইঙ্গিত মেলে শুনানিতে।
এনআইএ তদন্তকারীদের মতে, ঘটনাটি কেবল স্থানীয় অশান্তির ফল নয়, বরং ডিজিটাল মাধ্যমে উসকানি ছড়িয়ে পরিকল্পিতভাবে অস্থিরতা তৈরির সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ষড়যন্ত্রের জাল কতদূর বিস্তৃত, তা নির্ধারণের চেষ্টা চলছে। আজকের শুনানির মধ্য দিয়ে মামলাটি আবারও আলোচনায় এসেছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।




















