বৈধ ভোটারের নথি আপলোডে গাফিলতি! শোকজের মুখে ইআরও–এইআরও, চাপে নির্বাচন কমিশন

বৈধ ভোটারের নথি আপলোডে গাফিলতি! শোকজের মুখে ইআরও–এইআরও, চাপে নির্বাচন কমিশন

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – বৈধ ভোটারদের নথি আপলোড না হওয়াকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে রাজ্যে। সাধারণ হয়রানির অভিযোগ উঠতেই এবার শোকজের মুখে ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) ও অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসাররা (এইআরও)। সূত্রের খবর, তাঁদের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিস জারি করতে চলেছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। বাংলায় ‘সার’–এর কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে নির্বাচন কমিশনের পোর্টালও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু অভিযোগ, এখনও পর্যন্ত ১ লক্ষ ১৪ হাজার ভোটারের নথি আপলোডই হয়নি।
কমিশন সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই বিপুল সংখ্যক আবেদনকারীর মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশের বৈধ নথি নেই। তবে বাকি ৪০ শতাংশ সম্পূর্ণ বৈধ ভোটার হয়েও চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম নাও পেতে পারেন, শুধুমাত্র নথি আপলোড না হওয়ার কারণে। যদিও পরে ফর্ম সিক্স জমা দেওয়ার সুযোগ রাখা হবে বলে কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে কমিশন নিজেই ব্লক লেভেল অফিসারদের (বিএলও) মাধ্যমে ফর্ম সিক্স পূরণ করানোর ব্যবস্থা করবে। কিন্তু কেন নির্ধারিত সময়ে নথি আপলোড করা হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্ট ইআরও ও এইআরও-দের ভূমিকা নিয়ে। জানা গিয়েছে, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের শোকজ করা হবে এবং প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনের কাছে তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সুপারিশ করা হবে।
‘সার’–এর শুনানি শেষে তথ্য যাচাই করে কার নাম ভোটার তালিকায় থাকবে এবং কে বাদ পড়বেন, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব ইআরও ও এইআরও-দেরই। কিন্তু ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ ও ‘আনম্যাপড’ মিলিয়ে ১ কোটি ৫১ লক্ষ ৭৩৫ জনের শুনানি প্রক্রিয়ার পরেও এখনও ২৭ লক্ষ নাম নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানা যাচ্ছে। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়া ২১ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই শেষ করার কথা।
ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, নির্ধারিত সময় অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা আদৌ প্রকাশ করা সম্ভব হবে কি না। বিষয়টি নিয়ে কমিশনও উদ্বিগ্ন। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে দ্রুত নথি নিষ্পত্তির জন্য সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের কড়া নজরদারির নির্দেশ দিয়েছেন। যদিও কয়েকটি জেলা প্রশাসনের তরফে কমিশনের সফটওয়্যারকেই এই জটিলতার জন্য দায়ী করা হচ্ছে।
এখন দেখার, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জট কাটিয়ে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে পারে কি না নির্বাচন কমিশন, নাকি এই প্রশাসনিক গাফিলতি আরও বড় বিতর্কের জন্ম দেয়।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top