২৬ নভেম্বর, ছোটো বেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল সাংবাদিক হওয়ার। অভাব অনটনের সংসারেও পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বাসিন্দা সাবিহা শেখ। তারপরই স্বপ্ন পূরনের একটি সিড়ি পার করে ভর্তি হন পাকিস্তানের ডেরা ইসমাইল খানের গোমাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগে। আজ তিনি তাঁর সেই স্বপ্ন পূরন করেছেন, সাংবাদিক হিসাবে তাঁকে সকলেই চেনে, তবে তিনি একা নন একই সাথে পথ চলেছেন বন্ধু সামিরা লতিফা।
তবে সাংবাদিক হওয়ার রাস্তাটা তাঁদের কাছে সহজ ছিলনা, বাধা হয়ে এসেছিল ‘বোরকা’। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করার সাথে সাথে বহু প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় তাঁদের। অধ্যাপকরা বলে ছিলেন, “বোরকা পরা মেয়েরা ভালো সাংবাদিক হতে পারে না, তুমি রোরকা পরে কিভাবে সাংবাদিকতা করবে? পশ্চিমারা রোরকাকে ঠিকভাবে মেনে নিতে পারে না। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করতে তোমাকে মানুষের কথা শুনতে হবে”। প্রশ্ন শুনে প্রথমে উত্তর খুঁজে পায়নি সাবিহা, তবে পরে সাহসিকতার সঙ্গে উত্তর দেন, “আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, শুধু একজন ভালো সাংবাদিকই হবো না, বোরকা পরা মেয়েদের রোল মডেল হবো। বোরকা পরা মেয়ে পেশাদার সাংবাদিক হওয়ার জন্য প্ল্যাটফর্ম তৈরি করব”। শুধু কথায় নয় কাজেও করেন তিনি। আজ সত্যি সাবিহা বোরকা পরা মেয়েদের দিশারি হয়ে উঠেছেন। ২০১৮ সালে তিনি বন্ধু সামিরা লতিফাকে নিয়ে গড়ে তুলেছেন বোরকা জার্নালিস্ট সংগঠন।
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে বোরকা নিকাব পরার চল রয়েছে। সেইখানে মেয়েদের শিক্ষার জন্য তেমন স্কুল কলেজ নেই, দূরে গিয়ে পড়াশোনা করার মতো সবার পক্ষে সম্ভব হয়না। তাই তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরাই সাবিহা ও লতিফার একমাত্র লক্ষ্য হয়ে উঠেছে। বোরকা পড়া মেয়েদের জন্য সাংবাদিকতায় জায়গা তৈরি করার দাবী জানায় তাঁরা। যেখানে মুসলিম মহিলারা কোনো সমস্যা ছাড়া কাজ করতে পারবেন। কারণ বোরকা বা নিকাব কোনো দিন কোনো পেশায় আসার জন্য বাধা হতে পারে না। গোমাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান ওয়াসিম আকবর শেখ জানান, সরকারের সহযোগিতা না পেলে এই জাতীয় কাজ করে বেশি দূর এগানো সম্ভব নয়। তাই সরকারের সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে।
এই প্রসঙ্গে লতিফা বলেন, বোরকা জার্নালিস্ট নামের যে প্রকল্পটি মুসলিম মেয়ের জন্য চালু করার চেষ্টা করা হচ্ছে, তা প্রসারিত করতে আরও বেশি মহিলার এগিয়ে আসার প্রয়োজন। পাশাপাশি সংগঠন চালাতে অর্থেরও প্রয়োজন রয়েছে। তাই সরকারের বিনা সহায়তায় তাঁরা হয়তো লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবেন না।
![]()
![]()
![]()
![]()



















