ব্রিগেডের দিন গিরিশ পার্কে উত্তেজনা, দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত পুলিশকর্মী

ব্রিগেডের দিন গিরিশ পার্কে উত্তেজনা, দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত পুলিশকর্মী

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – প্রধানমন্ত্রীর ব্রিগেড সমাবেশের দিনই উত্তর কলকাতার গিরিশ পার্ক এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, রাজ্যের মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী ডাক্তার শশী পাঁজার বাড়ি লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি করেছে বিজেপি কর্মীরা। পাল্টা পদ্ম শিবিরের দাবি, তাদের মিছিলেই প্রথমে তৃণমূল কর্মীরা হামলা চালায়। দুই পক্ষের সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে ইটের আঘাতে জখম হয়েছেন বৌবাজার থানার ওসি বাপ্পাদিত্য নস্কর। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়ায় এবং বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
শনিবার সকালে উত্তর কলকাতার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিজেপি কর্মীরা মিছিল করে ব্রিগেডের দিকে যাচ্ছিলেন। গিরিশ পার্কে মন্ত্রীর বাড়ির সামনে দিয়ে মিছিল যাওয়ার সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তৃণমূলের অভিযোগ, ব্রিগেডে যাওয়ার নাম করে বিজেপি আশ্রিত কিছু দুষ্কৃতী পরিকল্পিতভাবে শশী পাঁজার বাসভবনকে নিশানা করে। ইটের আঘাতে বাড়ির জানালার কাচ ও সদর দরজার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে জোড়াফুল শিবির।
অন্যদিকে বিজেপির দাবি, শান্তিপূর্ণ মিছিলে বাধা দিতে তৃণমূল কর্মীরাই আগে থেকে মন্ত্রীর বাড়ির সামনে জড়ো হয়েছিল। তাদের অভিযোগ, পুলিশ নিষ্ক্রিয় ছিল এবং শাসকদলের কর্মীরাই প্রথম পাথর ছোড়ে। এই হামলায় বিজেপির উত্তর কলকাতা জেলা সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ আহত হন এবং তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে গেলে ইটের আঘাতে আহত হন বৌবাজার থানার ওসি বাপ্পাদিত্য নস্কর। এলাকায় ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং দফায় দফায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলতে থাকে। ফলে গিরিশ পার্ক চত্বর থমথমে হয়ে পড়ে এবং চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউয়ে যান চলাচল দীর্ঘ সময় ব্যাহত হয়।
শশী পাঁজার দাবি অনুযায়ী, তাঁর বাড়ির আশপাশে ‘বয়কট বিজেপি’ লেখা পোস্টার ছিল। ব্রিগেডে যাওয়ার পথে বিজেপি কর্মীরা বাস থেকে নেমে সেগুলি ছিঁড়ে দেন বলেও অভিযোগ। পরে তৃণমূল কর্মীরা পোস্টার লাগাতে গেলে সংঘর্ষ শুরু হয়। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি কর্মীরা বাস থেকে নেমে হামলা চালিয়েছে এবং পাথর ছোড়ার পাশাপাশি কাচের বোতল ও বিস্ফোরকসদৃশ বস্তু মজুত থাকার কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর অভিযোগ, এই ঘটনা গণতন্ত্রের ওপর আঘাত।
অন্যদিকে বিজেপি জানিয়েছে, তৃণমূলের হামলাতেই পরিস্থিতি অশান্ত হয়েছে এবং তাদের মিছিলে বাধা দেওয়া হয়েছে। পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা তীব্র হয়েছে, এবং এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top