ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুরুলিয়া বাসস্ট্যান্ডে ছাই ১২টি দোকান, বিধিবহির্ভূত দখল নিয়ে উঠল প্রশ্ন

ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুরুলিয়া বাসস্ট্যান্ডে ছাই ১২টি দোকান, বিধিবহির্ভূত দখল নিয়ে উঠল প্রশ্ন

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



পুরুলিয়া – ভয়াবহ আগুনে পুড়ে গেল পুরুলিয়া শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকার অন্তত ১২টি দোকান। রবিবার রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পুরুলিয়া বাসস্ট্যান্ডের ঠিক পিছন দিকে, বরাবাজারগামী বাস ছাড়ার জায়গার কাছে একের পর এক দোকানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা গ্রাস করে নেয় ঝুপড়ি, টিন ও কংক্রিট দিয়ে তৈরি একাধিক দোকান এবং ফলের ঠেলাগাড়ি। চারদিক কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়, শুরু হয় আতঙ্ক ও চিৎকার-চেঁচামেচি।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল বাহিনী। প্রথমে একটি ইঞ্জিন আগুন নেভানোর চেষ্টা শুরু করলেও আগুনের তীব্রতায় হিমশিম খেতে হয় দমকলকর্মীদের। পরে আরও দুটি ইঞ্জিন এসে যোগ দিলে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পাশাপাশি ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুরুলিয়া সদর থানার পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দারাও দমকলের সঙ্গে উদ্ধারকাজে হাত লাগান।

এই অগ্নিকাণ্ডের পর নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দোকান বসানো নিয়ে। অভিযোগ, পুড়ে যাওয়া দোকানগুলি দীর্ঘদিন ধরেই বিধিবহির্ভূতভাবে বাসস্ট্যান্ডের জমিতে চলছিল। যদিও বাসস্ট্যান্ডের ভিতরে পুরুলিয়া পুরসভার একটি মার্কেট কমপ্লেক্স গড়ে উঠেছে, সেই দোকানগুলি এখনও বণ্টন করা হয়নি। ফলে আগের মতোই যত্রতত্র ঝুপড়ি ও অস্থায়ী দোকান বসানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ। অথচ পুরসভা আগেই জানিয়েছিল, বাসস্ট্যান্ড দখল করে কোনও দোকান থাকতে দেওয়া হবে না। তা হলে কার মদতে এই দোকানগুলি চলছিল, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।

পুরুলিয়ার পুরপ্রধান নবেন্দু মাহালি জানান, তিনি নিজে বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবেন। কোথা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে এবং কীভাবে এই দোকানগুলি বসেছিল, তা খোঁজ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। প্রয়োজনে আরও একটি মার্কেট কমপ্লেক্স তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হবে বলেও মন্তব্য করেন পুরপ্রধান। উল্লেখ্য, সোমবারই পুরসভায় আগে থেকে তৈরি থাকা মার্কেট কমপ্লেক্সের দোকান বণ্টন নিয়ে বৈঠক রয়েছে।

পুরুলিয়া বাসস্ট্যান্ড শহরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে পড়লেও বর্তমানে এর মালিকানা প্রশাসনের হাতে। তবে দেখভালের দায়িত্ব রয়েছে পুরুলিয়া পুরসভার। ঘটনার রাতে বাসস্ট্যান্ডে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতির তদারকি করেন ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা বাসস্ট্যান্ড স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য বিভাসরঞ্জন দাস। তিনি জানান, আগুনের ভয়াবহতা ছিল অনেকটাই বেশি এবং দমকল দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। প্রাথমিকভাবে প্রায় ১২টি দোকান সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

দমকল বিভাগ জানিয়েছে, প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী একটি প্যাকেট হাউসের দোকান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে কী কারণে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটল, তা নিশ্চিত করতে তদন্ত শুরু করেছে দমকল বিভাগ ও পুরুলিয়া সদর থানার পুলিশ।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top