দেশ – ভারতীয় জলসীমায় প্রবেশ করায় ফের একাধিক বাংলাদেশি মৎস্যজীবীকে গ্রেফতার করল পুলিশ। আন্তর্জাতিক জলসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগে বঙ্গোপসাগর থেকে আটক করা হয় একটি বাংলাদেশি ট্রলার। ‘মায়ের দোয়া’ নামের ওই ট্রলারটিতে ছিলেন ১৩ জন বাংলাদেশি মৎস্যজীবী। জানা গিয়েছে, মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে মোট ৩১ জন বাংলাদেশি মৎস্যজীবীকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং দুটি ট্রলার আটক করা হয়েছে। আটক হওয়া সর্বশেষ ট্রলারটিকে পরে সুন্দরবনের ফ্রেজারগঞ্জ উপকূলে নিয়ে আসা হয়।
কোস্ট গার্ডের তরফে আটক ১৩ জন মৎস্যজীবীকে ইতিমধ্যেই ফ্রেজারগঞ্জ উপকূল থানার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। শুরু হয়েছে জিজ্ঞাসাবাদ পর্বও। পুলিশ খতিয়ে দেখছে, তাঁরা সত্যিই মাছ ধরতে এসেছিলেন, নাকি অন্য কোনও উদ্দেশ্যে বেআইনিভাবে ভারতীয় জলসীমায় প্রবেশ করেছিলেন। PRO Defence Kolkata-র তরফে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রমের দায়েই ট্রলার আটক করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে অনেকের বাড়ি বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলার পূর্বচণ্ডীপুর গ্রামে, বাকিদের মধ্যে কয়েকজনের বাড়ি ফিরোজপুর ও জিয়ানগরে। আইনানুগ প্রক্রিয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ শুরু করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার ধৃতদের কাকদ্বীপ মহকুমা আদালতে তোলা হবে।
এর আগে, গত জুলাই মাসে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। আন্তর্জাতিক জলসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগে সুন্দরবন সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে বাংলাদেশে আটক হন ৩৪ জন ভারতীয় মৎস্যজীবী। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল তাঁদের ব্যবহৃত দুটি ট্রলার—‘এফবি ঝড়’ ও ‘এফবি মঙ্গলচণ্ডী ৩৮’। ধৃত মৎস্যজীবীরা দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপ থেকে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। ঘটনাটি ঘটে বাংলাদেশের মোংলা বন্দরের কাছে।
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর দাবি, ভারতীয় মৎস্যজীবীরা গভীর রাতে আন্তর্জাতিক জলসীমা অতিক্রম করে তাঁদের সীমায় ঢুকে পড়ে মাছ ধরছিলেন। নজরে আসতেই বাংলাদেশি টহলদারি জাহাজ তাঁদের ধাওয়া করে আটক করে।
বিগত কয়েক মাসে উপকূল অঞ্চলে এমন ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে। কখনও ভারতীয়রা বাংলাদেশে ধরা পড়েছে, কখনও বাংলাদেশিরা ভারতে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই দেশের সাম্প্রতিক সম্পর্কের প্রেক্ষিতেই সীমান্তে এই কঠোর নজরদারি ও কড়াকড়ি বাড়ানো হয়েছে।




















