ভারত-আমেরিকার বাণিজ্য আলোচনা ‘গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে’, ইতিবাচক ফলাফলের দূরত্ব কম

ভারত-আমেরিকার বাণিজ্য আলোচনা ‘গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে’, ইতিবাচক ফলাফলের দূরত্ব কম

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


বিদেশ – ভারত ও আমেরিকার মধ্যে চলতে থাকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা এখন ‘খুব গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে’ পৌঁছেছে এবং ইতিবাচক ফলাফলের থেকে দুই দেশ এখন ‘খুব দূরে নেই’—এমনই দাবি করেছে কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক সূত্র।
সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়নের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার রাজনৈতিক পর্ব শেষ হলেও, আমেরিকার সঙ্গে আলোচনার গতি এক মুহূর্তের জন্যও থামেনি। সরকারি সূত্র স্পষ্ট করে দিয়েছে, ভারত-ইইউ চুক্তিকে আমেরিকার সঙ্গে দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে—এমন ধারণার কোনও ভিত্তি নেই। বরং সূত্রের দাবি, ইইউ-র সঙ্গে শেষ দিনের সীমিত বৈঠকগুলিতে আমেরিকার প্রসঙ্গ একবারও ওঠেনি। ভারতের বক্তব্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে সম্পূর্ণ নিজস্ব সময়সূচি ও প্রয়োজন অনুযায়ী, অন্য কোনও দেশের সঙ্গে আলোচনার প্রতিক্রিয়া হিসেবে নয়।
তবে একই সঙ্গে সরকার এটাও মানছে যে আমেরিকার বাজার ভারতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, অনেক ক্ষেত্রে ইউরোপের থেকেও বেশি। সেই কারণেই ইইউ চুক্তির চূড়ান্ত পর্ব চলাকালীনও ভারত ও আমেরিকার বাণিজ্য আলোচকরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। সূত্র জানাচ্ছে, দুই পক্ষের কথাবার্তা অব্যাহত রয়েছে এবং দিল্লি এখনও আশাবাদী যে খুব শিগগিরই ইতিবাচক সমাধান সূত্র বেরোবে।
বর্তমান বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ভারতের এই কৌশলকে যথেষ্ট বাস্তববাদী বলেই দেখছে বিশেষজ্ঞরা। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার এমএফএন-ভিত্তিক কাঠামো ক্রমশ চাপের মুখে পড়ছে। ফলে বহু দেশ বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার বদলে দ্বিপাক্ষিক বা সীমিত পরিসরের বাণিজ্য চুক্তির দিকে ঝুঁকছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের লক্ষ্য, বড় বাজারে রফতানির সুযোগ ও বিনিয়োগের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা।
সরকারি সূত্র জোর দিয়ে বলছে, ইইউ ও আমেরিকার বাজারকে ভারত পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখে না। বরং দুই জায়গাতেই রফতানি বাড়ানোই সরকারের উদ্দেশ্য। কারণ, তার সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশের কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগে।
বিশ্বের বৃহত্তম আমদানিকারক বাজার হিসেবে ইইউ-র গুরুত্ব উল্লেখ করে সূত্র জানায়, এই চুক্তিকে ভবিষ্যতের বড় বাজারগুলির সঙ্গে আলোচনার একটি মডেল হিসেবেই দেখছে ভারত—যেখানে শুরুতেই শুল্কে সুবিধা, বাধা মোকাবিলার ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে চুক্তি সম্প্রসারণের সুযোগ থাকবে।
যদিও ভারত-আমেরিকা চুক্তির কাঠামো নিয়ে নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে সরকারের মূল বার্তা পরিষ্কার—এটি কোনও ‘একটির বদলে আরেকটি’ কৌশল নয়। বরং ভারত একাধিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আলোচনায় এগোবে এবং অংশীদার দেশগুলোর কাছ থেকেও সেই মনোভাবই প্রত্যাশা করে।
মনে করা হচ্ছে, এই প্রকাশ্য বার্তার আরেকটি লক্ষ্য দেশের শিল্পমহলকে আশ্বস্ত করা। সরকার বোঝাতে চাইছে, ইইউ চুক্তি কোনও ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ফল নয় এবং আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা প্রায় শেষ পর্যায়ে। ভারতের বাণিজ্য নীতি মূলত বাজারে প্রবেশাধিকার, স্থিতিশীল নিয়ম ও সরবরাহ শৃঙ্খলকে শক্তিশালী করার মতো বাস্তব বাণিজ্যিক স্বার্থের উপর দাঁড়ানো, কূটনৈতিক সংকেত পাঠানোর কৌশলের ওপর নয়।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top