ভারত থেকে অজস্র ভালোবাসা নিয়ে বিদায় মেসির, সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগঘন বার্তা আর্জেন্তিনীয় তারকার

ভারত থেকে অজস্র ভালোবাসা নিয়ে বিদায় মেসির, সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগঘন বার্তা আর্জেন্তিনীয় তারকার

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



বিনোদন – মেসির ভারত সফর এদেশের ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এক স্বপ্নের মতোই ছিল। চারদিনে চার শহর ঘুরে অবশেষে ভারত সফরের ইতি টানলেন আর্জেন্তিনার বিশ্বকাপজয়ী তারকা। সফর শেষ করে নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারতের উদ্দেশে লিখলেন এক আবেগঘন বার্তা, যেখানে উঠে এল ভারতীয়দের ভালোবাসা, উষ্ণ অভ্যর্থনা এবং সফরের নানা স্মৃতি।

নিজের ইনস্টাগ্রাম পোস্টে দিল্লি, মুম্বই, হায়দরাবাদ ও কলকাতায় পাওয়া অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে মেসি লেখেন, “নমস্তে, ইন্ডিয়া! দিল্লি, মুম্বই, হায়দরাবাদ ও কলকাতায় গিয়ে অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা হয়েছে। এই সফরজুড়ে যে উষ্ণ আতিথেয়তা ও ভালোবাসা পেয়েছি, তার জন্য সকলকে ধন্যবাদ।” একই সঙ্গে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ভারতের মাটিতে ফুটবলের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল।

মেসির কথায় স্পষ্ট, ভারত সফরের প্রতিটি মুহূর্তই তাঁর কাছে ছিল বিশেষ। ভক্তদের আবেগ, উচ্ছ্বাস এবং নিঃশর্ত ভালোবাসা তাঁকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে বলেও জানান তিনি। তাঁর এই মন্তব্য ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে উন্মাদনা ও গর্বের অনুভূতি তৈরি করেছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, মেসির এই ভারত সফর ঘিরে দেশজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে প্রবল উন্মাদনা দেখা গিয়েছিল। বিভিন্ন শহরে তাঁকে এক নজর দেখার জন্য হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমিয়েছিলেন। মাঠের বাইরে মেসির জনপ্রিয়তা যে ভারতে আকাশছোঁয়া, তা এই সফরেই আরও একবার প্রমাণিত হয়েছে।

গত শুক্রবার ভোররাতে কলকাতায় পৌঁছন মেসি। শনিবার সকালে তিনি যান যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে। মেসিকে এক ঝলক দেখার আশায় হাজার হাজার দর্শক টিকিট কেটে স্টেডিয়ামে হাজির হয়েছিলেন। তবে মেসির মাঠে উপস্থিতি ছিল মাত্র কয়েক মিনিটের। নির্ধারিত স্টেডিয়াম ল্যাপও সম্পন্ন হয়নি। এরপরই পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। গ্যালারি থেকে মাঠে নেমে পড়েন দর্শকদের একাংশ, ছোড়া হয় চেয়ার ও বোতল, ছিঁড়ে ফেলা হয় ব্যানার। নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খায় এবং শেষ পর্যন্ত মেসিকে দ্রুত স্টেডিয়াম ছাড়তে হয়।

এই ঘটনার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান, স্পেনের মার্কা থেকে ফ্রান্সের ল’ইকুইপ—প্রায় সব প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমই যুবভারতীর বিশৃঙ্খলার ছবি তুলে ধরে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছে। কোথাও ‘মিসম্যানেজমেন্ট’, কোথাও ‘ক্ষুব্ধ সমর্থকদের তাণ্ডব’—সুর ছিল সর্বত্রই কঠোর।

কলকাতা থেকে মেসি সরাসরি যান হায়দরাবাদে। সেখানে মাঠে নেমে খেলতেও দেখা যায় তাঁকে। সফরসঙ্গী লুইস সুয়ারেজ ও রদ্রিগো ডি পলও তাঁর সঙ্গে মাঠে নামেন। এরপর মুম্বই ও দিল্লিতে কোনও ঝামেলা ছাড়াই অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। সোমবার সফর শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, ওইদিনই মেসি ও তাঁর সঙ্গীরা গুজরাতে অনন্ত আম্বানির ‘বনতারা’য় যান এবং সেখানেও কিছু স্মরণীয় মুহূর্ত কাটান বলে জানান মেসি।

মেসির পোস্টে উঠে এসেছে স্টেডিয়ামে দর্শকদের উচ্ছ্বাস, কলকাতায় তাঁর মূর্তি উদ্বোধন-সহ একাধিক স্মরণীয় মুহূর্তের ছবি। ভারত সফর শেষে তাঁর ইতিবাচক মন্তব্য নিঃসন্দেহে দেশের ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এক বড় প্রাপ্তি। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকার মুখে ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশার কথা নতুন করে অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে ক্রীড়ামহলে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top