অফ বিট – বসন্ত মানেই পলাশের লাল রঙে রাঙা প্রকৃতি। এই সময় অনেকেই ছুটে যান বাঁকুড়া বা পুরুলিয়া-র দিকে। তবে ভিড় এড়িয়ে যদি শান্ত, নিরিবিলি কোনও জায়গায় পলাশ দেখতে চান, তাহলে আপনার জন্য আদর্শ গন্তব্য হতে পারে শিউলিবনা—কলকাতার কাছেই এক অপূর্ব গ্রাম।
শুশুনিয়া পাহাড়-এর কোলে অবস্থিত এই ছোট্ট গ্রাম শহরের কোলাহল থেকে দূরে প্রকৃতির এক নিখাদ ঠিকানা। গ্রামবাংলার সরলতা, সবুজে ঘেরা পরিবেশ আর বসন্তের পলাশ—সব মিলিয়ে শিউলিবনা হয়ে ওঠে এক অনন্য অভিজ্ঞতা। দু’দিনের ছোট্ট ছুটিতে এখানে কাটিয়ে আসা যায় একেবারে নিশ্চিন্ত সময়।
গ্রামের কাছেই রয়েছে শুশুনিয়া পাহাড়, যেখানে বসন্তে সারি সারি পলাশ গাছে লাল হয়ে ওঠে চারদিক। এখানেই দেখা মেলে রাজা চন্দ্রবর্মণের প্রাচীন শিলালিপির, যা ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য আলাদা আকর্ষণ। পাহাড়ের চূড়া থেকে সূর্যাস্তের দৃশ্য মন ছুঁয়ে যায়।
এছাড়াও ঘুরে আসা যায় গাংদুয়া জলাধার—সবুজ প্রকৃতির মাঝে শালী নদীর উপর তৈরি এই জলাধার এখন পর্যটকদের অন্যতম প্রিয় জায়গা। কিছুটা দূরে রয়েছে ভরতপুর, যেখানে বিখ্যাত পটচিত্র শিল্প দেখতে পাওয়া যায়। পাশাপাশি বিসিন্দা পাহাড় ও ইকোপার্কও ঘোরার মতো জায়গা।
থাকার জন্য শিউলিবনায় হোমস্টের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া শুশুনিয়া পাহাড়ের আশেপাশেও থাকার বিকল্প পাওয়া যায়। ফলে প্রকৃতির কোলে থেকেই উপভোগ করা যায় এই ভ্রমণ।
কলকাতা থেকে এখানে পৌঁছনোও বেশ সহজ। সরাসরি গাড়িতে যাওয়া যায়। এছাড়া ধর্মতলা থেকে বাসে করে বাঁকুড়া বা ছাতনা হয়ে পৌঁছনো যায়। ট্রেনে গেলে বাঁকুড়া বা রানিগঞ্জ স্টেশনে নেমে সেখান থেকে গাড়িতে শিউলিবনা পৌঁছতে পারেন।



















