অফ বিট – ডুয়ার্স মানেই অনেকের কাছে Jaldapara National Park বা Gorumara National Park-এর ঘন জঙ্গল। তবে চেনা গণ্ডির বাইরেও উত্তরবঙ্গের বুকেই লুকিয়ে আছে এক অপূর্ব, নির্জন স্বর্গ—Bhutanghat। আলিপুরদুয়ার জেলার কালচিনি ব্লকের অন্তর্গত এই পাহাড়ি গ্রাম এখন অফবিট পর্যটকদের কাছে এক বিশেষ আকর্ষণ।
Jayanti থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে, Torsa River-এর তীরে অবস্থিত ভুটানঘাট। নাম থেকেই বোঝা যায়, এটি Bhutan সীমান্ত ঘেঁষা একটি এলাকা। একদিকে Buxa Tiger Reserve-এর ঘন অরণ্য, অন্যদিকে ভুটানের পাহাড়—এই দুইয়ের মেলবন্ধনে জায়গাটি যেন এক জীবন্ত ছবির মতো।
কোলাহল থেকে দূরে, প্রকৃতির মাঝে নির্জনতা খুঁজতে চাইলে ভুটানঘাট আদর্শ। এখানে মোবাইল নেটওয়ার্কের থেকেও বেশি স্পষ্ট শোনা যায় পাখির ডাক আর নদীর স্রোতের শব্দ। বক্সা অরণ্যের কাছে হওয়ায় মাঝেমধ্যেই বুনো হাতি, হরিণ বা বিরল পাখির দেখা মিলতে পারে, যা প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ।
ভুটানঘাটের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ Torsa River-এর মনোরম রূপ। নুড়ি-পাথরে ভরা নদীর বুক আর স্বচ্ছ জলের ধারা, তার ওপারে নীলচে পাহাড়—এই দৃশ্য মনকে এক অদ্ভুত শান্তিতে ভরিয়ে দেয়। বিশেষ করে বর্ষার পর নদীর রূপ আরও মোহনীয় হয়ে ওঠে।
থাকার জন্য এখানে বিলাসবহুল হোটেল না থাকলেও বনদপ্তরের বাংলো এবং কিছু হোমস্টে রয়েছে। স্থানীয় মানুষের আন্তরিকতা এবং ঘরোয়া খাবার ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে আরও স্মরণীয় করে তোলে। রাতে চারপাশ নিস্তব্ধ হয়ে গেলে তোর্সার স্রোতের শব্দে ঘুমিয়ে পড়া এক আলাদা অনুভূতি।
যাতায়াতের জন্য New Jalpaiguri বা শিলিগুড়ি থেকে সড়কপথে Alipurduar হয়ে Rajabhatkhawa পৌঁছতে হয়। সেখান থেকে বনদপ্তরের অনুমতি নিয়ে জঙ্গলের রাস্তা পেরিয়ে ভুটানঘাটে পৌঁছানো যায়। সীমান্ত এলাকা হওয়ায় এবং জঙ্গলের ভেতরে অবস্থিত বলে নিজস্ব গাড়ি বা ভাড়া করা জিপই সবচেয়ে সুবিধাজনক।
প্রকৃতির এই স্পর্শকাতর অঞ্চলে ভ্রমণের সময় পরিবেশ রক্ষার দায়িত্বও সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্লাস্টিক ব্যবহার এড়ানো, বনদপ্তরের নিয়ম মেনে চলা এবং নির্জনতার প্রতি সম্মান দেখানো—এই সবই ভুটানঘাটের সৌন্দর্য অটুট রাখার জন্য প্রয়োজন।




















