ভোটার তালিকার প্রজেনি ম্যাপিংয়ে বিস্তর গরমিল, নোটিস যাচ্ছে ২৪ লক্ষ ভোটারের কাছে

ভোটার তালিকার প্রজেনি ম্যাপিংয়ে বিস্তর গরমিল, নোটিস যাচ্ছে ২৪ লক্ষ ভোটারের কাছে

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – ভোটার তালিকার ‘প্রজেনি ম্যাপিং’ প্রক্রিয়ায় বড়সড় অসঙ্গতির ছবি সামনে আনল নির্বাচন কমিশন। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, একজন ভোটারের সঙ্গে ছ’জনের নাম যুক্ত রয়েছে—এমন ভোটারের সংখ্যা প্রায় ২৪ লক্ষ। পাশাপাশি নামের গরমিল ধরা পড়েছে প্রায় ৫১ লক্ষ ভোটারের ক্ষেত্রে, যা ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
বয়স সংক্রান্ত তথ্যেও একাধিক উদ্বেগজনক অসামঞ্জস্য ধরা পড়েছে। বাবা ও সন্তানের বয়সের পার্থক্য ১৫ বছরের কম—এমন ভোটারের সংখ্যা ৪ লক্ষ ৭৪ হাজার। আবার বাবার বয়সের সঙ্গে সন্তানের বয়সের ব্যবধান ৫০ বছরের বেশি—এমন ঘটনাও রয়েছে ৮ লক্ষ ৪১ হাজার ক্ষেত্রে। ঠাকুরদার বয়সের সঙ্গে ভোটারের বয়সে অসঙ্গতি মিলেছে আরও প্রায় ৩ লক্ষ ভোটারের তথ্যের মধ্যে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের মতো সীমান্তবর্তী জেলাগুলির অন্তত ৫০টি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রজেনি ম্যাপিংয়ের হার অস্বাভাবিকভাবে বেশি। এর আগেই ‘নো ম্যাপড’ তালিকায় থাকা প্রায় ৩০ লক্ষ ভোটারকে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে আরও ২৪ লক্ষ ‘প্রজেনি ম্যাপড’ ভোটার।
এতদিন মূলত যাঁদের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ছিল না, তাঁদেরই শুনানিতে ডাকা হচ্ছিল। কিন্তু কমিশনের কাছে এমন তথ্যও এসেছে, যেখানে ২০০২ সালের তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও ভোটারদের শুনানিতে হাজির হতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে গত বৃহস্পতিবার থেকেই ‘প্রজেনি ম্যাপড’ ভোটারদের নোটিস পাঠানো শুরু করেছে কমিশন। কমিশন সূত্রে দাবি, আগামী সাত দিনের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট ভোটারদের হাতে নোটিস পৌঁছে যাবে।
এদিকে তথাকথিত ‘লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সি’ বা তথ্যগত অসঙ্গতির সংখ্যাও কিছুটা কমেছে। বর্তমানে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৪ লক্ষ ৪৯ হাজারে, যেখানে আগে তা ছিল ১ কোটি ৩৬ লক্ষ। এই বিষয়টি গত বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সামনে তুলে ধরেছিলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি অভিযোগ করেন, এই ধরনের তথ্যগত অসঙ্গতির আড়ালে ‘ব্যাক এন্ড’ থেকে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে এবং এর মধ্যেই ভোট চুরির আশঙ্কা রয়েছে।
সব মিলিয়ে ভোটার তালিকা সংশোধনের এই পর্ব ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপ ও তার প্রভাব নিয়ে নজর রাখছে সব পক্ষই।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top