ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ, ট্রাইবুনালেও জটিলতা—চিন্তায় লক্ষ লক্ষ ভোটার

ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ, ট্রাইবুনালেও জটিলতা—চিন্তায় লক্ষ লক্ষ ভোটার

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার ঘটনায় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন লক্ষ লক্ষ ভোটার। এই পরিস্থিতির জন্য অনেকেই দায়ী করছেন Election Commission of India-কে। যদিও নতুন করে নাম তোলার সুযোগ হিসেবে ট্রাইবুনালের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, বাস্তবে সেই প্রক্রিয়াতেও নানা জটিলতার মুখে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
জানা গিয়েছে, সোমবার থেকে ট্রাইবুনালে আবেদন গ্রহণের কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু আবেদন করতে গিয়ে এক বড় সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন ভোটাররা। নির্দিষ্ট ফর্মে তথ্য দেওয়ার সময় তাঁদের জানাতে হচ্ছে—কেন তাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। অথচ চূড়ান্ত তালিকায় নাম বাদ যাওয়ার কারণ কমিশনের তরফে কোথাও উল্লেখ করা হয়নি। ফলে এক অদ্ভুত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে ভোটার নিজেই জানেন না কেন তাঁর নাম বাদ গিয়েছে, অথচ সেই কারণ লিখেই আবেদন করতে হচ্ছে।
চূড়ান্ত ভোটার তালিকার প্রথমপর্ব প্রকাশের পর যে সাপ্লিমেন্টারি তালিকাগুলি প্রকাশিত হয়েছে, সেখানেও বাদ যাওয়ার কারণ জানানো হয়নি। অথচ ট্রাইবুনালের আবেদনপত্রে সেই তথ্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফলে আবেদনকারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ বাড়ছে।
উল্লেখ্য, খসড়া ভোটার তালিকায় নাম বাদ যাওয়ার কারণ একবার উল্লেখ করা হয়েছিল, যেখানে প্রায় ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়ে—কেউ মৃত, কেউ স্থানান্তরিত, আবার কেউ অন্য কেন্দ্রে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছিল। কিন্তু ২৮ ফেব্রুয়ারির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর আরও ছয় লক্ষের বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়লেও তার কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
ট্রাইবুনালের আবেদনপত্রে ভোটারদের নাম, ঠিকানা, সংশ্লিষ্ট বুথে বসবাসের সময়কাল, এপিক নম্বর এবং কোন তারিখে নাম বাদ গিয়েছে তা উল্লেখ করতে হচ্ছে। পাশাপাশি, নাম বাদ যাওয়ার কারণও লিখতে বলা হচ্ছে—যা এখন সবচেয়ে বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, অধিকাংশ ভোটারই জানেন না ঠিক কী কারণে তাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এমনকি আধিকারিকদের কাছ থেকেও স্পষ্ট উত্তর মিলছে না বলে অভিযোগ।
এই পরিস্থিতিতে অনেকেই আবেদনপত্রের ওই অংশ ফাঁকা রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে তাতে আদৌ নাম পুনরায় তালিকাভুক্ত হবে কিনা, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। নির্বাচনের আর এক মাসও বাকি নেই, তাই ভোটাধিকার ফিরে পাওয়া নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন সাধারণ ভোটাররা।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top