ভোটার তালিকা নিয়ে জট, সুপ্রিম কোর্টে সরব তৃণমূল

ভোটার তালিকা নিয়ে জট, সুপ্রিম কোর্টে সরব তৃণমূল

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


দিল্লি – ভোটের আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ভোটার তালিকা। আর সেই তালিকাকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি, যা পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে পৌঁছলেও এখনও স্পষ্ট নয় কার নাম তালিকায় রয়েছে, আর কার বাদ পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভোটাধিকার সংক্রান্ত বিষয়টি পৌঁছেছে সুপ্রিম কোর্ট-এ, যেখানে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে এসেছে।
এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে তৈরি হওয়া জট কাটাতে তৃণমূল কংগ্রেস শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। তাদের মূল দাবি, যাঁদের নাম এখনও ‘বিচারাধীন’ তালিকায় রয়েছে, তাঁদের আগের ভোটার তালিকার ভিত্তিতে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক। কারণ, প্রথম দফার ভোটের আগে মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়সীমা দ্রুত শেষ হয়ে আসছে, ফলে বহু মানুষ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
মঙ্গলবারের শুনানিতে তৃণমূলের আইনজীবী জানান, ৬ এপ্রিল মনোনয়ন জমার শেষ দিন এবং ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোট। নিয়ম অনুযায়ী, মনোনয়ন প্রক্রিয়া শেষ হলেই ভোটার তালিকা স্থির হয়ে যাবে। এর ফলে বিচারাধীন তালিকায় থাকা ব্যক্তিরা ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে পারেন।
শুনানিতে উঠে আসে, অন্তত ১৪ জন প্রার্থীর নাম এখনও বিচারাধীন তালিকায় রয়েছে। তাঁদের পক্ষে মনোনয়ন জমা দেওয়াও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এই প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, বিষয়টি মূলত প্রশাসনিক এবং তা কলকাতা হাই কোর্ট-এর প্রধান বিচারপতির তত্ত্বাবধানে রয়েছে। পাশাপাশি তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ হলেও সাধারণ মানুষ তা সহজে দেখতে পাচ্ছেন না। রাজনৈতিক দলগুলিকে সফট কপি দেওয়ার দাবিও তোলা হয়।
এর জবাবে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, যাঁদের সমস্যা রয়েছে তাঁরা নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে পারেন। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, প্রয়োজনে প্রতিদিন সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব এবং ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে কলকাতা হাই কোর্ট-এর প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি আরও মন্তব্য করেন, এই ধরনের সমস্যা মূলত পশ্চিমবঙ্গেই বেশি দেখা গিয়েছে, অন্য রাজ্যগুলিতে এসআইআর প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে মসৃণ ছিল। পাল্টা যুক্তিতে বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গেই বিভিন্ন অসঙ্গতি বেশি সামনে এসেছে বলেই এই সমস্যা প্রকট হয়েছে।
এদিন আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি ওঠে—ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করার সময়সীমা বাড়ানো হোক। যদিও এই বিষয়ে পরবর্তী শুনানিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি আদালত কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে, যেসব কেন্দ্রে আগে ভোট, সেগুলির সমস্যা আগে সমাধান করার চেষ্টা করতে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top