রাজ্য – ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা তথ্য সংশোধনে কোনও কারচুপি হচ্ছে না তো— এই প্রশ্ন ঘিরে রাজনৈতিক টানাপড়েনের মধ্যেই সক্রিয় হল বিচার বিভাগ। তথ্যগত অসংগতির জট কাটাতে সুপ্রিম কোর্ট-এর নির্দেশে শনিবার কলকাতা হাইকোর্ট-এ এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকের নির্যাস হিসেবেই সামনে এসেছে এক অভিনব পদ্ধতি। কমিশন সূত্রে খবর, ভোটারদের দেওয়া নথি ও আধিকারিকদের পর্যবেক্ষণ খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত সিলমোহর দেবেন বিচারকেরাই। আর এই গোটা প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য তৈরি করা হচ্ছে একটি স্বতন্ত্র ডিজিটাল পোর্টাল।
সিইও দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বিচারকদের নামের তালিকা হাতে পেলেই ওই পোর্টালে প্রত্যেকের জন্য আলাদা ‘লগ-ইন আইডি’ তৈরি করা হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে ওটিপি ভিত্তিক প্রবেশের ব্যবস্থা থাকছে। পোর্টালে প্রবেশের পর সংশ্লিষ্ট বিচারককে নিজের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিধানসভা এলাকা বেছে নিতে হবে। এরপর বুথভিত্তিক ‘পার্ট নম্বর’ নির্বাচন করলেই ভেসে উঠবে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা ভোটারদের নাম ও ক্রমিক সংখ্যা।
স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রতিটি নামের পাশে থাকবে নির্দিষ্ট বিকল্প। উভয় পক্ষের তথ্য ও নথি যাচাইয়ের পর বিচারক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে পারবেন— ‘রিজেক্ট’ বা ‘অ্যাকসেপ্ট’। তবে শুধু বোতাম টেপাই শেষ কথা নয়। বাধ্যতামূলকভাবে একটি ‘কমেন্ট’ বক্সে লিখে জানাতে হবে তাঁর সুনির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ। কেন আবেদন গ্রহণ করা হল বা কেন বাতিল করা হল, তার আইনি ও যৌক্তিক ব্যাখ্যাও পোর্টালেই নথিভুক্ত করতে হবে।
প্রশাসনিক মহলের মতে, ভোটার তালিকা নিয়ে অতীতে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, বিচারকদের এই সরাসরি নজরদারি তা অনেকটাই প্রশমিত করতে পারে। নথিপত্রের অসংগতি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের সক্রিয় ভূমিকা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির এক নতুন অধ্যায় সূচনা করতে চলেছে।




















