রাজ্য – নির্বাচনের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। তার মধ্যেই সোমবার প্রথম দফার ভোটার তালিকা ফ্রিজ হতে চলেছে। অর্থাৎ, এই সময়সীমার পর প্রথম দফার জন্য আর নতুন করে কোনও নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। আগামী ২৩ এপ্রিল রাজ্যের ১৫২টি আসনে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সোমবারই মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন, এবং এই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই কার্যত চূড়ান্ত হয়ে যাবে ভোটার তালিকা।
এই পরিস্থিতিতে বহু ভোটারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে। বিচারাধীন তালিকা থেকে বাদ পড়া যাঁরা ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন, তাঁদের মধ্যে কারা শেষ পর্যন্ত ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে।
এসআইআর ট্রাইবুনালের কার্যক্রম এখনও শুরু না হওয়ায় সমস্যা আরও জটিল হয়েছে। বিচারাধীন তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারদের শুনানি শুরু না হওয়ায় তাঁদের ভাগ্য ঝুলেই রয়েছে। একবার ভোটার তালিকা ফ্রিজ হয়ে গেলে আর নতুন করে নাম তোলার সুযোগ থাকবে না, ফলে এবারের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার থেকেও বঞ্চিত হতে পারেন তাঁরা।
দীর্ঘ টালবাহানার পর গত ২৩ মার্চ বিচারাধীনদের প্রথম অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করেছিল নির্বাচন কমিশন। তার আগে ২১ মার্চ রাজ্যের ২৩টি জেলার জন্য ১৯ জন প্রাক্তন বিচারপতিকে নিয়ে ট্রাইবুনাল গঠনের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। কিন্তু বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ১৫ দিন কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত ট্রাইবুনালের কার্যক্রম শুরু হয়নি। এর ফলে প্রথম দফার ১৫২টি আসনের বহু বিচারাধীন ভোটার এবারের তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কায় রয়েছেন। কমিশন এখনও বাদ পড়া ভোটারদের নির্দিষ্ট সংখ্যা জানায়নি।
জানা গিয়েছে, প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর অভাবেই ট্রাইবুনালের কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। মোট ১৯টি ট্রাইবুনাল কোর্টরুম তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। জোকায় শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার অ্যান্ড স্যানিটেশনে আপিলেট ট্রাইবুনাল চালানোর জন্য জলসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের কাছ থেকে আট সপ্তাহের অনুমতি পেয়েছে কমিশন। এই বিষয়ে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র, পূর্ত দফতর এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হলেও এখনও জট কাটেনি।
প্রথম দফার পাশাপাশি দ্বিতীয় দফার ভোটার তালিকাও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। দ্বিতীয় দফার তালিকা ফ্রিজ হওয়ার নির্ধারিত দিন ৯ এপ্রিল। ফলে বিপুল সংখ্যক ভোটার দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন, তাঁদের ভোটাধিকার বজায় থাকবে কি না, তা নিয়েই এখন বড় প্রশ্ন।



















