ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে আতঙ্কের মাঝেই আশ্বাস, ‘কোনও হিন্দুর নাম বাদ যাবে না’— দিল্লি থেকে মতুয়াদের বার্তা শমীকের

ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে আতঙ্কের মাঝেই আশ্বাস, ‘কোনও হিন্দুর নাম বাদ যাবে না’— দিল্লি থেকে মতুয়াদের বার্তা শমীকের

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


দিল্লী – ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া ঘিরে তৈরি হওয়া আতঙ্কের আবহে দিল্লিতে বসে ফের একবার মূলত মতুয়াদের আশ্বস্ত করলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানান, এই প্রক্রিয়ায় কোনও হিন্দুর নামই বাদ যাবে না। শমীকের কথায়, “যাঁরা সব খুঁইয়ে এখানে এসেছেন, এই মাটিতে তাঁদের অধিকার আমাদের মতোই।”

এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকেই বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করে আসছেন, সমস্ত মতুয়াদের নাম ভোটার তালিকায় থাকবেই। কিন্তু বাস্তব চিত্র নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। তথ্য বলছে, শুধুমাত্র বনগাঁ মহকুমাতেই ১ লক্ষ ৩৪ হাজার মানুষ ‘নো ম্যাপিং’ তালিকায় রয়েছেন। খোদ বিজেপির গাইঘাটার বিধায়ক সুব্রত ঠাকুরের দাবি, এই তালিকাভুক্তদের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশই মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ।

এই পরিস্থিতিতে মতুয়াদের একাংশের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ বিজেপির উপর বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ তুলছেন। এমন আবহেই দিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “কোনও হিন্দুর নাম বাদ যাবে না। যাঁরা সব খুইয়ে এখানে এসেছেন, এই মাটিতে তাঁদের অধিকার আমাদের মতোই।” তবে এই আশ্বাসে আদৌ কতটা ভরসা ফিরে আসে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ থেকে উদ্বাস্তু হয়ে এদেশে আসেন বহু মতুয়া। তাঁদের অনেকেরই নাম নেই ২০০২ সালের ভোটার তালিকায়। বিজেপি সাংসদ ও কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর আগেই আশ্বাস দিয়েছিলেন, সিএএ আইনের মাধ্যমে তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। এদিন শমীকও রাজধানীতে বসে একই সুরে বলেন, “মতুয়াদের সিএএ-র স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে। সময় আছে, ফর্ম পূরণ করুন।”

তবে অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের সংঘাধিপতি তথা গাইঘাটার বিধায়ক সুব্রত ঠাকুর ভিন্ন সুরে কথা বলছেন। তাঁর দাবি, “নো ম্যাপিং ভোটারদের মধ্যে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশই উদ্বাস্তু শ্রেণির মানুষ। এদের একমাত্র রক্ষাকবচ সিএএ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কাছে আবেদন করব, ফাস্ট ট্র্যাকের মাধ্যমে দ্রুত এদের নাগরিকত্ব দেওয়া হোক।”

মতুয়াদের অনেকেই জানাচ্ছেন, আবেদন করার পরেও এখনও নাগরিকত্ব মেলেনি। এরই মধ্যে শুরু হতে চলেছে এসআইআর-এর শুনানি প্রক্রিয়া। সেখানে প্রয়োজনীয় নথি দেখাতে না পারলে কী হবে, সেই প্রশ্নেই আতঙ্কে দিন কাটছে বহু মতুয়ার।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top