রাজ্য – বিধানসভা ভোটের আগেই উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে বড় বার্তা দিতে চাইছে রাজ্য সরকার। দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা কলেজ স্তরের শিক্ষক নিয়োগে গতি আনতে সক্রিয় হয়েছে কলেজ সার্ভিস কমিশন। রাজ্যের প্রতিটি সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজে কোন বিষয়ে কত শূন্যপদ রয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য চেয়ে নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। ফেব্রুয়ারির শুরুতেই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে বলে কমিশন সূত্রে খবর।
কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, রাজ্যজুড়ে সব কলেজকে আগামী ১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিষয়ভিত্তিক শূন্যপদের হিসাব জমা দিতে হবে। কোন কলেজে কোন বিষয়ে কতজন সহকারী অধ্যাপক প্রয়োজন, সেই তথ্য হাতে পেলেই নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। লক্ষ্য একটাই—বিধানসভা ভোটের আগেই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২১ সালের পর রাজ্যের কলেজগুলিতে নতুন করে কোনও সহকারী অধ্যাপক নিয়োগ হয়নি। ফলে কয়েক বছরে জমে থাকা শূন্যপদের সংখ্যা আড়াই হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর স্টেট এলিজিবিলিটি টেস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং তার ফল জানুয়ারিতেই প্রকাশ হওয়ার কথা। কমিশন সূত্রের দাবি, ফল প্রকাশ পেলেই ফেব্রুয়ারিতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি হতে পারে।
এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় শুধু ২০২৫ সালের সেট উত্তীর্ণরাই নন, ২০২১ সালের পর থেকে সেট উত্তীর্ণ সমস্ত প্রার্থীই আবেদন করার সুযোগ পাবেন। একাধিক বছর ধরে অপেক্ষায় থাকা চাকরিপ্রার্থীদের জন্য এটি বড় স্বস্তির খবর বলে মনে করছে শিক্ষামহল।
প্রসঙ্গত, রাজ্যে ২৭তম সেট পরীক্ষার আবেদন গ্রহণ করা হয়েছিল গত বছর ১ অগস্ট থেকে ৩১ অগস্ট পর্যন্ত। অনলাইনে আবেদন জমা দেন প্রার্থীরা। এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে রাজ্যের কলেজগুলিতে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসেবে চাকরি করার যোগ্যতা অর্জন করা যায়। উল্লেখ্য, পরীক্ষার আবেদনমূল্য আগের তুলনায় বাড়ানো হয়েছে।
স্নাতকোত্তর স্তরে ন্যূনতম ৫৫ শতাংশ নম্বরপ্রাপ্ত প্রার্থীরাই সেট পরীক্ষায় বসতে পারেন। পাশাপাশি পিএইচডি ডিগ্রিধারীরাও এই পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। মোট ৩৩টি বিষয়ে দু’টি পত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়। তালিকাভুক্ত নয় এমন বিষয়ে স্নাতকোত্তর উত্তীর্ণরা সেট দেওয়ার সুযোগ পান না। একই বিষয়ে একবার সেট উত্তীর্ণ হলে দ্বিতীয়বার পরীক্ষায় বসার অনুমতিও নেই।
সব মিলিয়ে ভোটের মুখে কলেজ স্তরে সহকারী অধ্যাপক নিয়োগ রাজ্য সরকারের উচ্চশিক্ষা নীতিতে নতুন গতি আনতে পারে বলেই মনে করছেন শিক্ষা মহলের একাংশ।




















