ভোটের আগে অস্তিত্বের লড়াই, বামফ্রন্টের শরিকদলগুলির সংগঠনেই ধস

ভোটের আগে অস্তিত্বের লড়াই, বামফ্রন্টের শরিকদলগুলির সংগঠনেই ধস

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে কঠিন বাস্তবের মুখোমুখি বামফ্রন্টের শরিকদলগুলি। একসময় রাজ্যের রাজনীতিতে প্রভাবশালী থাকা Forward Bloc, Communist Party of India এবং Revolutionary Socialist Party—এই তিন শরিক এখন ভোটে জয়ের থেকেও বড় লড়াই লড়ছে নিজেদের সংগঠনের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সদস্য সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমে গিয়েছে। ফরওয়ার্ড ব্লকের সদস্য সংখ্যা নেমে এসেছে প্রায় পাঁচ হাজারে, সহযোগী সদস্য মিলিয়ে প্রায় দশ হাজার। অন্যদিকে সিপিআই-এর সদস্য সংখ্যা এখন প্রায় ২৮ হাজার, যা একসময় এক লক্ষের কাছাকাছি ছিল। আরএসপি-র ক্ষেত্রেও একই চিত্র—প্রায় ১৫ হাজার সদস্য নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে দলটি। এই তিন দল যথাক্রমে ২৩, ১৭ ও ১৯টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে।
একসময় সুন্দরবন, মুর্শিদাবাদ, চা-বলয় ও মেদিনীপুর অঞ্চলে এই দলগুলির দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। একাধিক মন্ত্রিত্বও ছিল তাদের দখলে। কিন্তু বর্তমানে বহু দলীয় কার্যালয় বন্ধ হয়ে গিয়েছে বা বেদখল হয়েছে। দেওয়াল লেখার লোকের অভাব, প্রচারের গাড়ির সংকট, এমনকি পতাকা-ফেস্টুন কেনার মতো অর্থও নেই—এই পরিস্থিতিতে বড় র‍্যালির কথা ভাবাও দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছে।
ফরওয়ার্ড ব্লকের রাজ্য সম্পাদক নরেন চট্টোপাধ্যায় স্বীকার করেছেন, সদস্য সংখ্যা কমেছে এবং অনেকেই আর সদস্যপদ নবীকরণ করছেন না। একই সুর শোনা গিয়েছে সিপিআই-এর রাজ্য সম্পাদক স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায়। তিনি জানান, তহবিলের অভাবে প্রচারে গিয়েই সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আর্থিক সাহায্য চাইতে হচ্ছে। এমনকি নন্দীগ্রামের প্রার্থী শান্তি গিরি আধুনিক পদ্ধতিতে কিউআর কোড ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছেন।
আরএসপি-র রাজ্য সম্পাদক তপন হোড়ও স্বীকার করেছেন, সদস্য সংখ্যা কমে যাওয়া এবং সংগঠনের শক্তি ক্ষয় এখন বড় চ্যালেঞ্জ। একসময় যেসব এলাকায় তাদের শক্ত ঘাঁটি ছিল, যেমন গোসাবা, বাসন্তী, আলিপুরদুয়ার বা বালুরঘাট—সেখানেও এখন প্রভাব অনেকটাই কমে গিয়েছে। প্রাক্তন মন্ত্রী সুভাষ নস্করও জানিয়েছেন, ভোটে লড়াই চালিয়ে যেতে এখন সাধারণ মানুষের উপরেই নির্ভর করতে হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে শরিকদলগুলির মধ্যে সমঝোতাও পুরোপুরি মসৃণ নয়। কয়েকটি আসনে আইএসএফ-এর সঙ্গে গোঁজামিলের চিত্রও সামনে এসেছে। ফলে রাজনৈতিক মহলের মতে, সংসদীয় ক্ষমতার বাইরে দীর্ঘদিন থাকার প্রভাব এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির চাপে বামফ্রন্টের শরিকদলগুলির ভবিষ্যৎই এখন বড় প্রশ্নের মুখে। একসময়ের শক্তিশালী এই রাজনৈতিক শক্তিগুলির অস্তিত্বই যেন এখন নিভু নিভু প্রদীপের মতো টিকে থাকার লড়াই লড়ছে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top