ভোটের ময়দানে তৃণমূলের আত্মবিশ্বাস, ইস্যু সংকটে দিশেহারা বিজেপি

ভোটের ময়দানে তৃণমূলের আত্মবিশ্বাস, ইস্যু সংকটে দিশেহারা বিজেপি

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – সারা বছর মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাওয়ার দাবিতে আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল কংগ্রেস। সেই ধারাবাহিক কাজের জেরেই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ফের মানুষের সমর্থন মিলবে বলে মনে করছে ঘাসফুল শিবির। তৃণমূলের দাবি, বিজেপির হাতে এখন আর লড়াই করার মতো কোনও কার্যকর ইস্যু নেই। পুরনো ও বস্তাপচা ইস্যুগুলি আর মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হচ্ছে না, তা বিজেপিও বুঝতে পেরেছে বলে রাজনৈতিক মহলের অভিমত।
এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের প্রধান নির্বাচনী অস্ত্র হয়ে উঠেছে এসআইআর। এসআইআর প্রক্রিয়ায় হয়রান মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক কাজগুলিও তুলে ধরা হচ্ছে। বিধানসভা কেন্দ্র ধরে ধরে কোন এলাকায় কী উন্নয়ন হয়েছে, তা বিস্তারিতভাবে সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে। এর ফলে শহর থেকে গ্রাম—সর্বত্র বিজেপি নেতা-কর্মীরা মানুষের প্রশ্নের মুখে পড়ছেন। সূত্রের খবর, এই পরিস্থিতিতে হতাশ ও দিশেহারা হয়ে পড়ছেন বঙ্গ-বিজেপির অনেক কর্মী।
এর মধ্যেই ঘোষণা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাজেট। কিন্তু সেই বাজেট থেকেও বাংলার জন্য বিশেষ কোনও প্রাপ্তি চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ উঠেছে। ‘বাংলা কী পেল’—এই প্রশ্ন এখন জনমানসে ঘুরছে এবং নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে বিজেপিকে তার জবাব দিতে হবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। এই বাস্তবতা বুঝেই গ্রামবাংলার বহু বিজেপি নেতা-কর্মী বিকল্প পথ খুঁজছেন বলে সূত্রের খবর।
এমন পরিস্থিতিতে বিজেপির একাংশ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আপাতত বাড়ি বাড়ি জনসংযোগে আর যাবে না। এই সিদ্ধান্তই কার্যত তৃণমূলকে আরও একটি রাজনৈতিক সুবিধা এনে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এসআইআর পর্ব শেষ হলেই নির্বাচন কমিশন বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করতে পারে। ফলে রাজনৈতিক দলগুলির হাতে সময় খুব বেশি নেই। সেই কারণেই তৃণমূল ইতিমধ্যেই ভোটকেন্দ্রিক প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে এবং প্রার্থী বাছাইয়ের কাজও এগোচ্ছে। সেখানে বিজেপি অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে বলে সূত্রের দাবি।
অন্যদিকে, এতদিন প্রচারে বিজেপি নেতারা উত্তরবঙ্গে এইমস, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তার কোনও স্পষ্ট প্রতিফলন এবারের বাজেটে দেখা যায়নি। ফলে উত্তরবঙ্গেও মানুষের দুয়ারে গিয়ে প্রচার করা কঠিন হবে বলেই মনে করছেন বিজেপির নেতারা। সেই কারণেই সভা-সমাবেশে জোর দেওয়ার কৌশল নিচ্ছে বঙ্গ-বিজেপি। তবে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলায় এসে যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে গিয়েছিলেন, তা যে বাস্তবে রূপ পায়নি—এ কথা এখন সাধারণ মানুষই বলছে।
এছাড়াও কেন্দ্রীয় সরকারের রিপোর্টেই কলকাতা দেশের নিরাপদতম শহরগুলির মধ্যে অন্যতম হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বিজেপির অভিযোগও তেমনভাবে ধোপে টিকছে না। রাজ্যের একের পর এক প্রকল্প কেন্দ্রীয় স্তর থেকেও স্বীকৃতি পেয়েছে। উল্টে তৃণমূল বাংলার বঞ্চনার প্রশ্নে আরও আক্রমণাত্মক হয়েছে, যার কার্যকর জবাব তৈরি করতে পারেনি বিজেপি।
সব মিলিয়ে নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খাওয়ার বিষয়টিও তৃণমূলের প্রচারে উঠে আসছে। এরই মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন সুপ্রিম কোর্টে। সেখানে যদি তিনি ইতিবাচক সাড়া পান, তবে তা তৃণমূলের হাতে আরও একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক অস্ত্র হয়ে উঠবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। আর সেই অস্ত্রের মোকাবিলায় আপাতত বঙ্গ-বিজেপির হাতে তেমন কিছু নেই বলেই সূত্রের খবর।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top