রাজ্য – শিয়রে বিধানসভা নির্বাচন। এক সময় অসমে বিজেপির পক্ষে রাজনৈতিক সমীকরণ যতটা স্বস্তিদায়ক মনে হচ্ছিল, এখন পরিস্থিতি ততটাই জটিল হয়ে উঠছে। রাজ্যে জাতিগত সমীকরণ বদলাচ্ছে, মুসলিম ভোট একজোট হচ্ছে, পাশাপাশি অসমীয়াদের মধ্যেও ক্ষোভ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ভোটের আগে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করে তথাকথিত ‘খয়রাতির রাজনীতি’ শুরু করলেন বিজেপির উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রভাবশালী নেতা ও অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা।
অসমে ভাতা ও আর্থিক সহায়তার রাজনীতি নতুন নয়। উপজাতি সম্প্রদায়, চা-শ্রমিকদের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প বহুদিন ধরেই চালু রয়েছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল পুরুষদের জন্য নতুন প্রকল্প। বৃহস্পতিবার, বছরের প্রথম দিন ‘বাবু আচনি’ প্রকল্পের ঘোষণা করে অসম সরকার। এই প্রকল্প অনুযায়ী, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে স্নাতকোত্তর স্তরের ছাত্ররা প্রতি মাসে ২ হাজার টাকা এবং স্নাতক স্তরের ছাত্ররা মাসে ১ হাজার টাকা করে বৃত্তি পাবেন।
তবে এই প্রকল্পে সকল ছাত্র অন্তর্ভুক্ত হবেন না। যাঁদের অভিভাবক সরকারি চাকরিতে যুক্ত বা যাঁদের পরিবারের বার্ষিক আয় ৪ লক্ষ টাকার বেশি, তাঁরা এই প্রকল্পের আওতার বাইরে থাকবেন। উল্লেখ্য, অসমে ছাত্রীদের জন্য এরকম আর্থিক সহায়তার প্রকল্প আগে থেকেই চালু রয়েছে। হিমন্ত বিশ্বশর্মা আগেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ছাত্রদের জন্যও একই ধরনের প্রকল্প আনা হবে। ভোটের মুখেই সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করলেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “আমি আমার ভাইদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছি।”
শুধু পুরুষদের জন্য নয়, মহিলাদের জন্যও বড় আর্থিক ঘোষণার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। অসমে ‘অরুণোদয়’ প্রকল্পের আওতায় মহিলারা প্রতি মাসে এক হাজার টাকা ভাতা পান। এবার ভোটের আগে ঘোষণা করা হয়েছে, জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত পাঁচ মাসের ভাতা একসঙ্গে ফেব্রুয়ারি মাসে দেওয়া হবে, বিহু উপলক্ষে। এর পাশাপাশি ‘বোহাগ বিহু’ উপলক্ষে অতিরিক্ত ৩ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। ফলে রাজ্যের প্রায় ৩৭ লক্ষ মহিলা ভোটের ঠিক আগে এককালীন প্রায় ৮ হাজার টাকা করে পাবেন।
এই ঘোষণাকে ঘিরে তীব্র সমালোচনায় সরব হয়েছে বিরোধীরা। তাঁদের অভিযোগ, রাজ্যে কর্মসংস্থানের অভাব, মহিলাদের নিরাপত্তা ও আয়ের স্থায়ী ব্যবস্থা নেই। সেই ব্যর্থতা ঢাকতেই ভাতার মাধ্যমে ভোট কেনার চেষ্টা করছে বিজেপি সরকার। তবে এই আর্থিক ঘোষণাগুলি ভোটে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।




















