ভোটের মুখে বড় দলবদল: তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে প্রত্যাবর্তন মৌসম বেনজির নূরের

ভোটের মুখে বড় দলবদল: তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে প্রত্যাবর্তন মৌসম বেনজির নূরের

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – রাজ্যে নির্বাচনের আবহে ফের একবার বড় রাজনৈতিক দলবদল। তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে আবার কংগ্রেসে ফিরলেন মৌসম বেনজির নূর। গনি খান চৌধুরীর পরিবারের এই সদস্যের প্রত্যাবর্তন ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। দলবদলের পাশাপাশি সামনে এসেছে তাঁর শিক্ষা, পেশাগত জীবন ও আর্থিক অবস্থার বিস্তারিত তথ্য।
মালদহের সুপরিচিত নূর পরিবারের কন্যা মৌসম বেনজির নূর। মা রুবি নূরের মৃত্যুর পরই সক্রিয় রাজনীতিতে পা রাখেন তিনি। তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়েছিল মায়ের বিধানসভা কেন্দ্র সুজাপুর থেকে। পরবর্তীতে ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচ বছর মালদহ উত্তর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ ছিলেন মৌসম।
শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকেও তিনি পরিচিত মুখ। কলকাতার লা মার্টিনিয়ার স্কুলে পড়াশোনা শেষ করার পর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, ২০০৫ সালে হাজরা ল কলেজ থেকে এলএলবি পাশ করেন তিনি। কর্মজীবনের শুরুতে ফক্স অ্যান্ড মণ্ডল নামে একটি নামী আইনি সংস্থায় কাজ করেছেন মৌসম।
রাজনীতিতে পুরোপুরি নামার আগে প্রায় দু’বছর সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিস করেন তিনি। তাঁর স্বামী মির্জা কায়েশ বেগ বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের প্র্যাকটিসিং আইনজীবী।
২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় জমা দেওয়া হলফনামায় মৌসম তাঁর আয়ের বিস্তারিত হিসেব তুলে ধরেন। নথি অনুযায়ী, ২০১৩-১৪ অর্থবর্ষে তাঁর আয় ছিল ৫ লক্ষ ১৯ হাজার ৫৬৫ টাকা। ২০১৪-১৫ সালে আয় হয় ৫ লক্ষ ১১ হাজার ৭৯০ টাকা। ২০১৫-১৬ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৪ লক্ষ ৯৬ হাজার ১১০ টাকা। ২০১৬-১৭ সালে আয় ছিল ৪ লক্ষ ৮০ হাজার ৭২০ টাকা এবং ২০১৭-১৮ সালে ৪ লক্ষ ৮১ হাজার ৭৮০ টাকা।
২০১৯ সালে তাঁর হাতে নগদ ছিল ৯০ হাজার ৪৫০ টাকা। তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা ছিল মোট প্রায় ১৩ লক্ষ টাকার বেশি। পাশাপাশি বিভিন্ন খাতে কয়েক লক্ষ টাকার বিনিয়োগের কথাও হলফনামায় উল্লেখ করা হয়। তাঁর নামে তিনটি এলআইসি বিমা রয়েছে।
সম্পত্তির নিরিখেও মৌসমের অবস্থান যথেষ্ট উল্লেখযোগ্য। তাঁর গ্যারাজে রয়েছে একটি অ্যাম্বাসাডর, একটি মারুতি এবং একটি মাহিন্দ্রা স্করপিও। এসবিআই থেকে গাড়ি কেনার জন্য লোন নেওয়ার কথাও তিনি হলফনামায় উল্লেখ করেছিলেন। তাঁর কাছে রয়েছে ৮০ গ্রাম সোনা, যার মূল্য ২০১৯ সালে ছিল প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা। সব মিলিয়ে তাঁর স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ছিল প্রায় ৫২ লক্ষ ৯১ হাজার টাকা।
মালদহ স্টেশন রোডে প্রায় ১০ হাজার বর্গফুট জুড়ে তাঁর একটি কমার্শিয়াল বিল্ডিং ‘নূর ম্যানসন’। এছাড়াও সাহজালালপুর এলাকায় রয়েছে প্রায় ৬ হাজার বর্গফুটের আবাসিক সম্পত্তি।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন মৌসম বেনজির নূর। পরের বছর তিনি রাজ্যসভার সাংসদ হন এবং তৃণমূলে থাকাকালীন মালদহ জেলা তৃণমূলের সভানেত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। সাত বছর পর, রাজ্যসভা মেয়াদ শেষ হওয়ার চার মাস আগেই তাঁর কংগ্রেসে ফেরা বাংলার ভোট রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top