মুর্শিদাবাদ – বাংলার ভোট-হাওয়ায় যাঁরা বারবার শিরোনামে উঠে আসছেন, তাঁদের তালিকায় প্রথম দিকেই থাকছেন হুমায়ুন কবীর। নতুন দল গঠন থেকে জোট-সমীকরণ—সব মিলিয়ে রাজনৈতিক পারদ যখন চড়া, ঠিক সেই সময়েই বিপাকে পড়েছে হুমায়ুন কবীরের মেয়ের শ্বশুরবাড়ি। বহুদিনের পুরনো মাদক মামলায় অভিযুক্ত ওই পরিবারের বিপুল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্রশাসন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মোট ১০ কোটি ৭৩ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সংশ্লিষ্ট পরিবারের বিরুদ্ধে একাধিক পুরনো এনডিপিএস (NDPS) মামলা রয়েছে। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে দায়ের হওয়া এক মাদক মামলায় হুমায়ুন কবীরের মেয়ের শ্বশুর এবং তাঁর ভাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। সেই মামলার ভিত্তিতেই আদালতের অনুমতি মিলেছে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার। নির্দেশ পাওয়ার পরই সক্রিয় হয় জেলা পুলিশ এবং সোমবার সকালে তাঁদের বাড়ির সামনে মোতায়েন করা হয় পুলিশবাহিনী।
জেলা পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, মুর্শিদাবাদের মোট ১০টি জায়গায় ওই পরিবারের সম্পত্তির হদিশ মিলেছে। লালগোলা-সহ মোট ১৭টি জায়গায় হুমায়ুন কবীরের মেয়ের শ্বশুরের নামে সম্পত্তি রয়েছে বলে পুলিশের দাবি। জেলা পুলিশ সুপার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি বা মাদক কারবারের অর্থ গোপনকারীদের বিরুদ্ধে কোনওরকম রেয়াত করা হবে না। তাঁর বক্তব্য, জেলায় মাদক বা মাদকজাত অবৈধ ব্যবসা চলতে দেওয়া হবে না—আইনের হাত সবাইকে ছুঁতেই হবে।
এই ঘটনার পর সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসকে কাঠগড়ায় তুলেছেন হুমায়ুন কবীরের মেয়ে নাজমা সুলতানা। তাঁর অভিযোগ, এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক চক্রান্ত। নাজমার দাবি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই তাঁর বাবাকে টার্গেট করা হচ্ছে। বাবাকে না পেরে এবার তাঁকেই নিশানা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। পাশাপাশি তিনি দাবি করেছেন, তাঁর শ্বশুর কোনও বেআইনি কাজের সঙ্গে যুক্ত নন এবং তাঁর স্বামী একজন ব্যবসায়ী, ফলে এই অভিযোগগুলির কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই।
অন্যদিকে, বিজেপি এই ঘটনায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছে। বিজেপির বক্তব্য, মাদক কারবারে তৃণমূলেরই মদত ছিল। এতদিন হুমায়ুন কবীর তৃণমূলে থাকায় বিষয়টি চাপা পড়ে ছিল, আর এখন তিনি দল ছাড়ায় লোক দেখানো অভিযান শুরু হয়েছে বলে দাবি তাদের।
তবে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ এই সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, এটি সম্পূর্ণ পুরনো মামলা এবং আদালতের নির্দেশেই সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের প্রক্রিয়া চলছে। অনেকদিন ধরেই এই মামলা বিচারাধীন ছিল বলে দাবি করেন তিনি। কুণালের মন্তব্য, এখন ভিকটিম কার্ড খেলে কোনও লাভ হবে না এবং হুমায়ুন কবীর বিদ্রোহী হওয়ার পর এই মামলার সঙ্গে নতুন করে কোনও যোগ নেই।
চূড়ান্ত ভোটের আগে এমনিতেই উত্তপ্ত বাংলার রাজনীতি। তার মধ্যেই মুর্শিদাবাদের এই মাদক মামলায় সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের ঘটনা জেলার রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন করে আলোড়ন ফেলেছে।




















