রাজ্য – ভোট প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে নির্বাচন কমিশন। এবার থেকে ভোটে ভয় দেখানো, বাধা সৃষ্টি বা অনিয়মের অভিযোগ উঠলেই সংশ্লিষ্ট বুথে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এই এই নতুন নীতি কার্যকর হতে পারে বলে সূত্রের খবর।
এতদিন পর্যন্ত রিপোল বা পুনর্নির্বাচন ছিল ব্যতিক্রমী ঘটনা এবং শুধুমাত্র গুরুতর পরিস্থিতিতেই তা করা হত। তবে এবার সেই ধারণা বদলাতে চলেছে। কমিশনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে দ্রুত রিপোল করার দিকে জোর দেওয়া হবে, যাতে ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় থাকে।
আইনগত দিক থেকেও এই পদক্ষেপের ভিত্তি রয়েছে। ভারতের জনপ্রতিনিধিত্ব আইন ১৯৫১-এর ধারা ৫৮(এ) অনুযায়ী বুথ দখল হলে ভোট বাতিল করে পুনর্নির্বাচনের বিধান রয়েছে। পাশাপাশি ধারা ১৩৫(এ)-তে ভোটারদের ভয় দেখানো, বাধা দেওয়া বা রাস্তা আটকে দেওয়ার মতো অপরাধের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে।
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ভোটারদের ভয় দেখানো, ভোট দিতে বাধা দেওয়া, বুথ দখল, ছাপ্পা ভোট বা ভোটারদের পথে আটকে দেওয়ার মতো অভিযোগ উঠলেই সংশ্লিষ্ট বুথে পুনর্নির্বাচন করা হতে পারে। এর ফলে ভোটের দিনে অনিয়ম রুখতে আরও কড়া নজরদারি চালানো হবে।
এছাড়াও ভোটারদের সুবিধার্থে অভিযোগ জানানোর পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। যদি কোনও ভোটার হুমকির কারণে ভোটকেন্দ্রে যেতে না পারেন, তাহলে তিনি বাড়ি থেকেই ফোনে অভিযোগ জানাতে পারবেন বা সরাসরি পর্যবেক্ষক কিংবা কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। সেই অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট বুথে রিপোলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
কমিশন আরও জানিয়েছে, ভোটের সময় অশান্তি বা ভয় দেখানোর মতো ঘটনায় পুলিশ ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেফতার করতে পারবে। ফলে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন আরও সক্রিয় ভূমিকা নেবে।
এই নতুন অবস্থানের ফলে রিপোলের সংখ্যা বাড়তে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি বুথস্তরে নজরদারি আরও জোরদার হবে এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।



















