‘ভোট চুরি ইভিএমে নয়, ভোটার তালিকায়’—সিইও দফতরে বিস্ফোরক অভিযোগ অভিষেকের

‘ভোট চুরি ইভিএমে নয়, ভোটার তালিকায়’—সিইও দফতরে বিস্ফোরক অভিযোগ অভিষেকের

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – রাজ্যের নির্বাচন কমিশনের দফতর-সহ জোড়াসাঁকো, শ্যামপুকুর, চৌরঙ্গী, পূর্ব মেদিনীপুরের এগরা-সহ বিভিন্ন অফিসে অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার ফর্ম-৬ জমা পড়েছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন Abhishek Banerjee। সোমবার রাতে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করে বাইরে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, এই ফর্ম-৬-এর মাধ্যমে এমন ব্যক্তিদের নাম ভোটার তালিকায় তোলা হচ্ছে, যারা আদতে এই রাজ্যের বাসিন্দাই নন, বরং বিহার ও উত্তরপ্রদেশের ভোটার।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সিইও অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করার দাবি জানানো হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, যেসব ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের আবেদন সরাসরি ট্রাইবুনালে যাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা নির্বাচন কমিশনের দফতরেই জমা পড়ছে, যা নিয়মবহির্ভূত। তাঁর কথায়, “ভোট চুরি হচ্ছে ভোটার তালিকায়, ইভিএমে নয়।”
তিনি আরও দাবি করেন, মাত্র ৬-৭ ঘণ্টার মধ্যে বিপুল সংখ্যক ফর্ম-৬ জমা পড়া অত্যন্ত সন্দেহজনক। এমনকি অভিযোগ তোলেন, বিহার ও উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দাদের নাম জোর করে বাংলার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এর আগে বাঁকুড়ার তালডাংরায় ফর্ম-৭ জালিয়াতির ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি, যেখানে স্থানীয়দের নাম ও স্বাক্ষর জাল করে ফর্ম পূরণের অভিযোগ উঠেছিল।
এছাড়া নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, বাংলার ডেমোগ্রাফি বদলানোর চেষ্টা চলছে এবং এই প্রক্রিয়ায় চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে সিইও অফিসের ওপর। এই প্রসঙ্গে Amit Malviya-র নামও উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগও তোলেন নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে।
সিইও দফতরে প্রবেশের আগে এবং পরে একাধিক ভিডিও ও বক্তব্য সমাজমাধ্যমে শেয়ার করেন অভিষেক। তাঁর এক্স পোস্টে তিনি লেখেন, বাংলার মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারে হস্তক্ষেপের সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা চলছে এবং এতে বিজেপির ভূমিকা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, “মানুষের অধিকার আছে তাদের ভোটের কী হচ্ছে তা জানার। এটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মূল ভিত্তির সঙ্গে জড়িত।”
এদিকে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই প্রায় ৪০ লক্ষ বিচারাধীন ভোটারের নথি নিষ্পত্তির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রথম তিনটি তালিকায় ২৮ লক্ষ ভোটারের নাম প্রকাশিত হয়েছে এবং তার মধ্যে প্রায় ১৮ লক্ষ ভোটারকে অযোগ্য বলে বাদ দেওয়া হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে কলকাতার জোকায় পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় ইনস্টিটিউটে ট্রাইবুনাল বসার কথা রয়েছে। তবে ভোটার তালিকা নিয়ে এই তীব্র অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে নির্বাচনের আগে রাজ্যের রাজনৈতিক আবহ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top