‘ভ্যালেন্টাইন্স ডে’-এর ভ্যালেন্টাইন আসলে কে? জেনে নিন ইতিহাস……

‘ভ্যালেন্টাইন্স ডে’-এর ভ্যালেন্টাইন আসলে কে? জেনে নিন ইতিহাস……

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram

১৪ ফেব্রুয়ারি, কিছুদিন আগেই আমরা পেরিয়ে এলাম ‘বাঙালির ভ্যালেন্টাইন্স ডে’। শীতের আমেজে সরস্বতী পুজো সকলেরই বেশ ভলোই কাটল।ওই যে প্রেমের মরশুম শুরু তার আর অন্ত নেই।বাইরে প্রেমের মরশুম। সঙ্গে মনও ফুরফুরে। কিস ডে, টেডি ডে, প্রমিস ডে, প্রপোস ডে- এসকল পেরিয়ে এসে আজ ভ্যালেন্টাইন ডে।বছরের প্রতিটি দিনের সাথে প্রেমিক বা প্রেমিকার কাছে এই দিনটা যেন প্রতিবছর একটু বেশি স্পেশাল হয়ে পড়ে।

যদিও প্রেমের জন্য আলাদা কোনও দিন হয় না, প্রত্যেকটা দিনই ভালোবাসার দিন। আবার কেউ কেউ বেশ ঘটা করেই উদযাপন করেন প্রেমের এই স্পেশাল সপ্তাহটি।প্রেমের সপ্তাহের এই বিশেষ দিনে ব্যস্ততার মাঝেও প্রিয় মানুষের সঙ্গে নিজের মতো সময় কাটান।

কাছের মানুষটির সঙ্গে খাওয়া-দাওয়া, ঘোরা আর বেলা শেষে পার্কে গিয়ে কিছু সময় গল্প করা- এটাই সাধারণত আজকের দিনের বিশেষ প্ল্যান।কিন্তু এই ভ্যালেন্টাইন্স ডে দিনটি কেন পালন করছেন জানেন কি? আসলে এই দিনটির পেছনে কি রহস্য আছে? তাহলে এবার আপনাদের সেই কথা বলি।

জানা যায়, খ্রীস্টান ধর্মযাজক ও চিকিৎসক সেন্ট ভ্যালেন্টাইন ইতালির রোম নগরীতে সম্রাট দ্বিতীয় ক্লডিয়াসের সময়ে ধর্ম প্রচার করতেন। আর ঠিক সেই সময়েই রোমে সম্রাটের তরফে ধর্ম প্রচারে বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়। এদিকে ভ্যালেন্টাইন-এর উপর ধর্ম প্রচারের অভিযোগ আনা হয়। এ-ছাড়াও শোনা যায়, দ্বিতীয় ক্লডিয়াস নাকি মনে করতেন, রোমান সেনা বাহিনী আরও বেশী শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে যদি সৈন্যদের অবিবাহিত রাখা যায়। তাই তিনি সৈন্যদের বিবাহের ওপরেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। কিন্তু ধর্মযাজক ভ্যালেন্টাইন গোপনে সেনাদের মধ্যে বিয়ে দেওয়ার কাজটি চালিয়ে যেতে থাকেন। শেষমেশ দুই অভিযোগেই তাঁকে দ্বিতীয় ক্লডিয়াসের সামনে হাজির করা হয়, সেখানেও তিনি নাকি সম্রাটকেও খ্রীস্ট ধর্মে দীক্ষিত করার চেষ্টা করেন। এত বড় ধৃষ্টতার অপরাধে তাঁকে করাদন্ড দেওয়া হয়। বন্দি অবস্থাতে তিনি অলৌকিক চিকিৎসায় একজন কারারক্ষীর অন্ধ মেয়েকে দৃষ্টিদান করেন। তা দেখে মেয়েটির পরিবারের ৪৬ জন সদস্য একত্রে খ্রীস্ট ধর্ম গ্রহণ করেন।সাথে মেয়েটি ও ধর্মযাজক ভ্যালেন্টাইন একে অপরকে ভালোবেসে ফেলেন।

কিছুদিন পর ধর্মযাজক ভ্যালেন্টাইনের এই ধর্মপ্রচার সাথে প্রেমের কথা দ্বিতীয় ক্লডিয়াসের কানে যায়। সে-কারণে রেগে গিয়ে দ্বিতীয় ক্লডিয়াসের আদেশে কারারুদ্ধ ভ্যালেন্টাইনকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়। ইতিমধ্যেই ওই কারারক্ষীর মেয়ের সঙ্গে ভ্যালেন্টাইনের প্রণয়ের সম্পর্ক তৈরি হয়ে যায়। আর তাই, মৃত্যুদণ্ডের আগের দিন রাতে জেলে বসে ধর্মযাজক ভ্যালেন্টাইন তার প্রণয়ীর উদ্দেশ্যে লিখলেন একটি চিঠি। সেই চিঠির শেষে ছিল ‘তোমার ভ্যালেন্টাইন’– কথাটি।

আজ থেকে প্রায় দেড় হাজারেরও বেশী সময় আগে এভাবেই প্রথম ‘ভ্যালেন্টাইন কার্ড’টি লেখা হয়েছিল। তাই ‘তোমার ভ্যালেন্টাইন’-এই কথাটি আজও একই অভিব্যক্তি বজায় রেখে এখনও কার্ডে লেখা হয়, এভাবে সেগুলিতে দেড় হাজার বছরের ইতিহাস সাক্ষী রয়ে যায়। এমন হাজারো কার্ড ভালোবাসা প্রকাশ করতে ভালোবাসার মানুষটিকে দেওয়া হয়ে থাকে আজ এই বিশেষ দিনটিতে, যেদিন সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়েছিল- ১৪ই ফেব্রুয়ারি (ভ্যালন্টাইন’স ডে)।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top