মকর সংক্রান্তিতে গঙ্গাসাগরে পুণ্যস্নানের মহোৎসব, কনকনে ঠান্ডা উপেক্ষা করে লক্ষাধিক ভক্তের ঢল

মকর সংক্রান্তিতে গঙ্গাসাগরে পুণ্যস্নানের মহোৎসব, কনকনে ঠান্ডা উপেক্ষা করে লক্ষাধিক ভক্তের ঢল

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


দক্ষিন 24 পরগণা – আজ মকর সংক্রান্তি। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী পুণ্য স্নানে মেতে উঠেছে দেশ। তারই কেন্দ্রে গঙ্গাসাগর। ভোর থেকেই কনকনে ঠান্ডাকে উপেক্ষা করে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী নেমে পড়েছেন সাগরের জলে। কপিল মুনির আশ্রমে পুজো দিতে জমেছে দীর্ঘ লাইন। চারদিকে ভক্তদের জয়ধ্বনি আর শঙ্খধ্বনিতে মুখরিত গঙ্গাসাগর মেলা চত্বর।
কথায় আছে, ‘সব তীর্থ বারবার, গঙ্গাসাগর একবার’। সেই বিশ্বাসকে সঙ্গী করেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পুণ্যার্থীরা ছুটে এসেছেন সাগরদ্বীপে। ভোরের আলো ফোটার আগেই সাগরতটে জনসমুদ্রের ছবি ধরা পড়েছে। স্নান শেষে কপিলমুনি আশ্রমে পুজো দেওয়ার জন্য অপেক্ষায় রয়েছেন লক্ষাধিক মানুষ।
পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গঙ্গাসাগর মেলাকে ঘিরে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। গোটা মেলা চত্বরকে কার্যত নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে। স্নানঘাটে দুর্ঘটনা এড়াতে মোতায়েন রয়েছে সিভিল ডিফেন্স, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও নৌবাহিনীর কর্মীরা। ড্রোন ও সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে চলছে সার্বক্ষণিক নজরদারি।
মেলার আগেই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গঙ্গাসাগর এলাকা পরিদর্শন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন, পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা ও পরিষেবা নিয়ে কোনওরকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। সেই নির্দেশ মেনেই ভিড় সামলাতে কয়েক হাজার পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন করা হয়েছে।
নিখোঁজের ঘটনা দ্রুত মোকাবিলার জন্য চালু করা হয়েছে বিশেষ কন্ট্রোল রুম। আকাশপথেও নজরদারি চলছে প্রশাসনের তরফে। চলতি বছরে গঙ্গাসাগর মেলায় ভিআইপি সংস্কৃতি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যাতে সাধারণ পুণ্যার্থীদের কোনও অসুবিধা না হয়। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় কোনও খামতি রাখা হয়নি।
সব মিলিয়ে মকর সংক্রান্তির পুণ্য লগ্নে গঙ্গাসাগর এখন ধর্ম, বিশ্বাস ও মানুষের আবেগে ভাসছে। কনকনে ঠান্ডা, দীর্ঘ পথ—সব কিছু উপেক্ষা করেই পুণ্যস্নানের আনন্দে মাতোয়ারা লক্ষ লক্ষ মানুষ।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top